“আমরা এ দেশের নাগরিক, নথি দিতে হলে মতুয়ারা আন্দোলন করবে”

লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার অল্প কিছুদিন আগে, সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই ঘোষণার পর ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে বিজেপি-প্রভাবিত মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা যায়। ঠাকুরবাড়ির হরিচাঁদ গুরুচাঁদ মন্দিরের সামনে পাগল ও গোঁসাইরা ডঙ্কা ও কাঁসর বাজিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করে।
এই ঘটনার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই বিজ্ঞপ্তিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করছে যে, ভোট টানার জন্য বিজেপি সিএএ-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, বিজেপি দাবি করছে যে, সিএএ চালু করা তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ছিল। তারা বলেছে যে, এই আইন ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করবে।
কিন্তু তৃণমূল প্রভাবিত মতুয়াদের দাবি, ‘আমরা এ দেশের নাগরিক। তাহলে নতুন করে নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রয়োজন কী?’
এ দিন ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে মতুয়া হরিপদ পোদ্দার বলেন, ‘আমরা সিএএ-র দাবিতে ৫০ বছর ধরে আন্দোলন করছি। আজ আমরা ধন্য হয়েছি।’
বিজন বিশ্বাস নামে এক মতুয়া বলেন, ‘আমরা এ দেশে ভোট দিই। আমাদের ভোটে সরকার তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে আলাদা করে নাগরিকত্ব নেওয়ার কী প্রয়োজন?’
দীপক বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের ভোটার, আধার কার্ড রয়েছে। এ দেশে জমির মালিকানা রয়েছে।আবার কেন নতুন করে নাগরিক হতে হবে?’
এ প্রসঙ্গে রাজ্যসভার সংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘আমরা জানি না এর জন্য ফর্ম পূরণ করতে কী কী নথি দিতে হবে মতুয়াদের। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে নথি রয়েছে, সাধারণ মতুয়াদের কাছেও সেই নথি আছে। প্রধানমন্ত্রী এ দেশের নাগরিক হলে মতুয়ারা কেন নাগরিক হবেন না? কোনও নথি দিতে হলে মতুয়ারা আন্দোলন করবে।’
শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, ভোটের আগেই সিএএ চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী কথা রেখেছেন।’