আতঙ্কের নতুন নাম Parrot Fever! জেনেনিন এর উপসর্গ কী? চিকিৎসাই বা হয় কোন পথে?

মানব সভ্যতার জন্য বিপদ যেন শেষ হতে চায় না। করোনা, জিকা, সোয়াইন ফ্লু-এর পর এবার হাজির হয়েছে প্যারোট ফিভার। ইতিমধ্যেই ইউরোপে এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন এই রোগ কী, এর লক্ষণ কী, এবং এর চিকিৎসা কীভাবে সম্ভব।
এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কলকাতার বিখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুদ্রজিৎ পালের সাথে কথা বলেছি।
রোগের কারণ:
ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল জানান, এই রোগের জন্য দায়ী ‘চ্যালামডিয়া সিতাচি’ নামক একটি ব্যাকটেরিয়া। এই বিরল রোগের মূল বাহক হল পাখি। সাধারণত পাখির পালক, পালকের গুঁড়ো, মল-মূত্র ও লালার মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যারা পাখির সাথে বেশি মেলামেশা করেন, তাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি।
লক্ষণ:
এই রোগের প্রধান লক্ষণ হল জ্বর। এর পাশাপাশি গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা, কাশি, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। রোগ যদি তীব্র আকার ধারণ করে, তাহলে নিউমোনিয়ার মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই রোগ নিয়ে প্রথম থেকেই সাবধান থাকা জরুরি।
পাখির শরীরে লক্ষণ:
এই রোগ শুধু মানুষকেই নয়, পাখিদেরও আক্রমণ করে। আক্রান্ত পাখির শরীরে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা যায়:
দুর্বলতা
খাওয়ার অনিচ্ছা
চোখ দিয়ে জল পড়া
আপনার পোষ্য পাখির মধ্যে যদি এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তার সামনে যাওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক পরুন। তার কাছ থেকে সরে আসার পর দ্রুত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
রোগ নির্ণয়:
ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল জানান, এই রোগের লক্ষণ অন্যান্য সাধারণ অসুখের সাথে এতটাই মিল খায় যে, প্রথমে প্যারোট ফিভারের কথা ভাবাই হয় না। তবে রোগী যদি পাখির সাথে তার সম্পর্কের কথা জানান, তাহলে তাকে রক্তের সেরোলজি টেস্ট করানো হয়। এই টেস্টের রিপোর্টের মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব।
চিকিৎসা:
এই ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুখের মূল চিকিৎসা হল অ্যান্টিবায়োটিক। ঠিক সময়ে রোগ চিহ্নিত করে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শুরু করা গেলে, রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।