মিয়ানমারের ৭ শহরে সরকার গঠনের ঘোষণা বিদ্রোহীদের, চিন্তায় জান্তা

মিয়ানমারের উত্তর শান প্রদেশের দখলকৃত সাতটি এলাকায় একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী সংগঠন পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট (পিএসএলএফ)। আগামী বছরে তারা এই সরকার গঠন করবে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি জানিয়েছে, পিএসএলএফ হলো দেশটির সশস্ত্র সংগঠন তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) রাজনৈতিক শাখা। দলটি ১৯৯২ সালে থাই সীমান্তে গঠিত হয়েছিল। শান প্রদেশের নামহসান, মান্টং, নামহকাম, কুটকাই, নামতু, মংলোন এবং মংগাও দখল করেছে টিএনএলএ’র যোদ্ধারা।

যেকোনো সশস্ত্র সংস্থার দ্বারা জোরপূর্বক নিয়োগ করা প্রতিরোধ এবং কর আদায়ে হস্তক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পিএসএলএফ।

মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং আরাকান আর্মির (এএ) মতো ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জোটভুক্ত টিএনএলএ। জোট গত বছরের ২৭ অক্টোবর উত্তর শান রাজ্য জুড়ে অপারেশন ১০২৭ শুরু করে। তারা প্রায় ২০টি শহর এবং চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ দখল করেছে।

পিএসএলএফ সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল টার আইক বং গত জানুয়ারিতে তায়াং জাতীয় বিপ্লব দিবসের বক্তৃতায় তায়াং প্রবাসীদের মুক্ত এলাকা পুনর্গঠনে নিজ নিজ এলাকায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘মুক্ত করা এলাকাগুলোকে পুনরুদ্ধার করার পদক্ষেপ হিসেবে আমরা জনগণকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সহায়তা প্রদানের জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাই।’

গত জানুয়ারি থেকেই পিএসএলএফ কুতকাই ও নামতুতে নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কাছ শুরু করেছে। তায়াং কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।

পিএসএলএফ এক বিবৃতিতে বলছে, জান্তা সরকারকে হটাতে মিয়ানমারের জনগণের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। পাশাপাশি একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে, এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তাদের দাবি, তায়াং জাতিগোষ্ঠী সামরিক শাসন এবং সংঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।