ভয়াবহ বন্যা, অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পশ্চিম উপকূলে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরো কয়েক হাজার মানুষের জীবন ঝুকির মুখে রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির ৩০ হাজার অধিবাসীকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বেন ডোমেনসিনো বলেছেন, ‘সিডনিতে প্রতিদিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে, তা সিডনি হারবারের জলের সমান। শহরটির অধিকাংশ রাস্তা ও সেতু এখন জলের নিচে।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ডমিনিক পেরোটেট জানিয়েছেন, রাজ্যের ৩টি প্রধান নদীর তীর ভেঙে প্রায় ৩২ হাজার বাসিন্দার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। এরই মধ্যে উদ্ধারের জন্য জরুরি বিভাগ ১ হাজার ৬০০ কল পেয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের উপকূলে মেইটল্যান্ড এবং নিউক্যাসল থেকে ইল্লাওয়ারা পর্যন্ত অনেক জায়গায় ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে সিডনির কয়েকটি এলাকায়। ফলে বাধ ও নদীগুলো উপচিয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা।

জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী স্টেফ কুক বলেছেন, ‘আমরা এখন একাধিক ফ্রন্টে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছি। নদীর তীরগুলো দ্রুত ভেঙে জনপদ প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকা।’

স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিসের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট অ্যাশলে সুলিভান জানিয়েছেন, সিডনির সঙ্গে অনেক শহরেরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সোমবার এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি বন্ধ না হওয়ায় এটি ঠিক কী পরিণতি তৈরি করবে আমরা জানি। এখন স্কুল ছুটি চলছে।’

আবহাওয়া ব্যুরো বলছে, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বাঁধের ছিদ্রের ফলে সিডনির পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাড়িঘরকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী স্টিফ কুক বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রিয়জনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিক।’

এরইমধ্যে বাঁধ রক্ষার জন্য স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।