আধার বাতিলের ফলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল, পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা কলেজ ছাত্রীর

সাম্প্রতিককালে, পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু মানুষের আধার কার্ড বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। কাঁকসার ১১ মাইলের বাসিন্দা আশা বিশ্বাসও এই সমস্যার শিকার। আধার কার্ড বাতিলের ফলে তার কলেজে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে এবং পরীক্ষায় বসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আশা বিশ্বাস বীরভূমের ইলামবাজারের কবি জয়দেব মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। গত দু’দিন আগে তার কাছে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আধার কার্ড বাতিলের চিঠি আসে। আধার কার্ড বাতিলের ফলে তার কলেজে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে। এই ঘটনায় আশার পরিবার চিন্তিত।

কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য ওই ছাত্রীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কাঁকসা বনকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাবাস্যুম খাতুন জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি ওই ছাত্রী যাতে পরীক্ষায় বসতে পারে তার জন্য প্রশাসনিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য দাবি করেছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের হয়রান করার পর এবার রাজ্যের মানুষকে সমস্যায় ফেলতে আধার কার্ড বাতিল করা শুরু করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে বিজেপির বিরোধিতায় নামা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বাড়িতে আধার কার্ড বাতিলের চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে যাঁদের আধার কার্ড বাতিল হয়েছে, তাঁদের বিকল্প কার্ড দেওয়া হবে।

আশার আধার কার্ড বাতিলের ঘটনা রাজ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত বিকল্প কার্ডের ব্যবস্থা এই সমস্যার সমাধানে কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলে দেবে।