OMG! হাতের টানের সঙ্গেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ, ক্ষোভ প্রকাশ করছে বাসিন্দারা

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার করায় কাজ শেষ না হতেই সড়কের কয়েকটি অংশের পিচ ঢালাই হাতের সঙ্গে উঠে যাচ্ছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলদেশের মাদারীপুর উপজেলাবাসীর আলোচনা-সমালোচনার বিষয়বস্তুও এখন কোটি টাকার এই রাস্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তদারকি না করার কারণেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এলজিইডি বলছে, কাজের মান খারাপ হলে পুনরায় করে দিবে ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদারের দাবি, সঠিক নিয়মের কাজ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার বাংলাবাজার-দুধখালী সড়কে ১কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা করা হয়। কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিকে এন্টারপ্রাইজ সম্পন্ন করে। এই সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ঢালাই উঠেগেছে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় খানাখন্দে ভরা প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কার অনুমোদন হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার করায় কাজ শেষ হতে না-হতেই সড়কের কয়েকটি অংশের পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) উঠে গেছে। পাথর, বিটুমিনসহ চলমান সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে যান চলাচল করায় এই কার্পেটিং অনেক জায়গায় উঠে গেছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা এলাকার বাসিন্দা নীরব মুন্সি বলেন, কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে। হাতের সঙ্গেই উঠে যাচ্ছে পিচ। রুটির মতো রোলিং হয়ে উঠে যাচ্ছে। ভারী গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে যাচ্ছে।
শুধু নীরব মুন্সী নয়, একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি সংস্কারে এতটা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে যে, কাজ শেষ হতে না-হতেই সড়কের অনেক অংশের পিচ ঢালাই উঠে গেছে। হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের লোকজন গাছের পাতা ও ময়লা-আর্বজনা পরিষ্কার না করে কাজ করেছেন। নিয়ম অনুসারে কমপ্রেশার মেশিন দিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে প্রাইম কোট দিয়ে পিচ ঢালাইয়ের কাজ হওয়ার কথা। তা না করে গাছের পাতা ও ময়লার ওপরই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আরিফুর রহমান মোল্লা বলেন, ছয়জন ইঞ্জিনিয়ার কাজটি তদারকি করেন। যেভাবে কাজ ধরা আছে ঠিক সেভাবেই কাজটি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।
তবে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কৃত্তনীয়া বলেছেন, সংস্কারকাজে কোনো অনিয়ম হলে পুনরায় কাজ করে দিবে।
তিনি বলেন, আমরা সাইট ভিজিট করে যদি অনিয়ম পাই তাহলে ঠিকাদার পুনরায় কাজ করে দিবে।