পাকিস্তানে বহু নাটকীয়তার পর বিরোধী দল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পিটিআই

পাকিস্তানে নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর থেকেই চলছে নাটকীয়তা। ক্ষণে ক্ষণে নতুন করে বদলে যাচ্ছে প্রেক্ষাপট। পাকিস্তানিরা এখনো জানেন না দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন করবে কোন দল। এর মধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ও পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে (সংসদে) বিরোধী দল হিসেবে যোগদানের জন্য দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান নেতা ইমরান খান।
এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিষ্টার সাইফ। ইমরানের দলীয় নির্দেশ নিয়ে সাইফ বলেন, দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে বিরোধী দল হিসেবে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া ইমরান খানের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাওয়া প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, বাস্তবতা সত্ত্বেও যদি আমরা আমাদের ভোট অনুযায়ী আসন পেতাম এবং ফলাফল পরিবর্তন না করা হতো, তাহলে হয়তো আজ আমরা ১৮০টি আসন নিয়ে কেন্দ্রে থাকতাম। আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে যে আমাদের প্রার্থীরা জিতেছে। আমরা বিরোধী দলেই বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
একদিকে সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি আর অন্যদিকে বিক্ষোভের কর্মসূচি। দুটিই সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে পিটিআই। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আজ দেশজুড়ে বিক্ষোভ করবে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। আর তাদের এই বিক্ষোভে অংশ নেবে জামায়াত-ই-ইসলামি। নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিধালী করতে ভেঙ্গে না পড়ে দেশজুড়ে দলকে সুসংগঠিত করে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠছে পিটিআই।
বিক্ষোভের কর্মসূচিকে সফল করতে অন্য দলগুলোকেও পাশে চেয়েছেন পিটিআই চেয়ারম্যান গহর আলী খান। তিনি বলেন, এবারের এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা আমাদের ম্যান্ডেট চুরি হতে দেবো না। ম্যান্ডেট পরিবর্তন এবং কারচুপি হয়েছে যারা এমনটি বিশ্বাস করেন আমরা এমন সব রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বিক্ষোভে জনসাধারণকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশব্যাপী বিক্ষোভে জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পিটিআই এর আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদ কায়সার। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, কথিত কারচুপির বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
শুধু মাঠের বিক্ষোভ নয়, আদালত পাড়াতেও সরব হচ্ছে পিটিআই। নির্বাচনে ৮৫টি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ইমরানে দল। এটিকে পাকিস্তানের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় জালিয়াতি’ উল্লেখ করে সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে দলটি।
ইমরান খানের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অপ্রত্যাশিতভাবে বেশিরভাগ আসন জিতেছে ঠিকই, কিন্তু সেটি সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বরং দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ- এন এবং বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপল’স পার্টি জোট গঠনের পর পরিস্থিতি এখন অনেকটাই তাদের নিয়ন্ত্রণে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবেন দেশটির জাতীয় পরিষদ সদস্যরা। পিপিপি’র সমর্থন নিয়ে নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তার ভাই শেহবাজকে সামনে নিয়ে আসেন। যার বিরুদ্ধে লড়বেন পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী ৫৬ বছর বয়সী ওমর আইযুব খান।