গাফিলতির ডেফিনেশন চান ডাক্তারবাবুরা, ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে জমা দেওয়া হলো দাবি

রোগীর রোগ নিরাময় করতে না পারা চিকিৎসার ব্যর্থতা। কিন্তু সেটা কি চিকিৎসকের গাফিলতি? না নিছক ভুল? নাকি রোগের চরিত্রের কারণে চিকিৎসার প্রতিবন্ধকতা? গাফিলতি আর ত্রুটির মধ্যে সূক্ষ্ম রেখাটা কোথায়?
আইএমএ-র চিঠি:
এই প্রশ্নগুলি তুলে দেশের অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকদের বৃহত্তম সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। কারণ সম্প্রতি ক্রেতাসুরক্ষা আদালতের একটি রায় এই প্রশ্নগুলি তুলে দিয়েছে জনমানসেও।
মহারাষ্ট্র ক্রেতাসুরক্ষা আদালতের রায়:
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় রোগী মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের পক্ষে রায় দিতে গিয়ে মহারাষ্ট্র ক্রেতাসুরক্ষা আদালত বলেছে, চিকিৎসা করতে গিয়ে ভুল করে ফেলা বা যথাসময়ে যথাযথ রোগ নির্ণয় করতে না পারাটা নিছকই ভুল বা ত্রুটি, সব ক্ষেত্রে তা গাফিলতি কখনওই নয়।
চিকিৎসকদের বক্তব্য:
চিকিৎসকদের একাংশ এই রায়কে বড় স্বস্তি বলে মনে করছে। তাদের বক্তব্য,কর্মক্ষেত্রের যে কোনও ভুলকে একমাত্র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই যে ভাবে সরাসরি গাফিলতি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা ঠিক নয়।মডার্ন মেডিসিনের ব্যাপকতা, দুনিয়াজুড়ে তার নিরন্তর গবেষণা ও প্রযুক্তির বিপুল উন্নতিতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে।কোনও চিকিৎসা ভুল না ঠিক, সেটা বিজ্ঞান নির্ধারণ করে। চটজলদি বলে দেওয়া সম্ভব নয়।
সরকারি চিকিৎসকদের বক্তব্য:
সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠনগুলির বক্তব্য,চিকিৎসাকে ক্রেতাসুরক্ষার আওতায় আনাটাই গণ্ডগোলের। চিকিৎসা কিন্তু ভোগ্য পণ্য বা পরিষেবা নয়।
যে কোনও কাজেই ভুল হতে পারে। চিকিৎসাতেও হয়। তার মানেই সেটা গাফিলতি নয়।দুর্ভাগ্যের হলো, সেই ভুলের অনেক বড় মাশুল সত্যিই অনেক সময়ে দিতে হয় রোগী-পরিজনকে। তবে এর জন্য চিকিৎসককে একপেশে ভাবে কাঠগড়ায় তোলা ঠিক নয়।