চোরের ১০ বার, গৃহস্থের ১ বার! সিসি ক্যামেরায় ফাঁস ভাড়াটের কীর্তি

চার মাস আগে অনামিকা দাস নামে এক গৃহকর্ত্রী কোয়েল দেবনাথ নামে এক মহিলাকে সকল নথিপত্র দেখে তাঁর বাড়িতে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে অনামিকা লক্ষ্য করেন যে তাঁর বাড়ি থেকে নগদ টাকা এবং সোনার গয়না পরপর চুরি হচ্ছে।

চুরির প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য অনামিকা তাঁর ঘরে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেন। এবং সিসিটিভি ফুটেজে ভাড়াটে কোয়েল দেবনাথকে চুরি করতে দেখা যায়।

ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে অনামিকা পুলিশে অভিযোগ জানান এবং কোয়েল দেবনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় কোয়েল স্বীকার করে যে চুরি করা সোনার গয়না সে ডাকবাংলোর কাছে একটি সোনার দোকানে বিক্রি করেছে।

পুলিশ বারাসাত থানার পুলিশ গিয়ে ওই সোনার গহনা উদ্ধার করে। অনামিকা জানান, প্রথমে ১০ হাজার টাকা এবং পরে প্রায় ৭৭ হাজার টাকার সোনার গয়না চুরি গিয়েছিল।

অনামিকা বলেন, “ব্রোকারের মাধ্যমে কোয়েল আমার বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে আসে। আমার দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য আমি মাঝে মাঝে আমার বাপের বাড়িতে থাকতে যাই। একদিন আমার স্বামী ভুল করে কোয়েলকে ঘরের চাবি দিয়ে দেন। সেই সুযোগে সে ১০ হাজার টাকা চুরি করে।”

“কয়েকদিন পর আমি দেখতে পাই আমার ৬ গ্রামের সোনার রিং, বাউটি ও কানপাশা নেই। বাইরের লোক আমার বাড়িতে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমি কোয়েলের উপর সন্দেহ করি।”

“থানায় গিয়ে অভিযোগ করার আগে আমি প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য ঘরে সিসিটিভি বসাই। মঙ্গলবার সিসিটিভি বসিয়ে বুধবার সকালে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। তারপর সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাই কোয়েল ঘরে ঢুকে লক খুলে সোনাদানা নিচ্ছে।”

পুলিশ যে সোনার দোকানে গয়নাগুলো বিক্রি করা হয়েছিল সেখানেও গিয়েছে। অনামিকা তার হারিয়ে যাওয়া সামগ্রী ফেরৎ চাইছেন।