বিশেষ: বিধবা বছর চিনাদের কাছে বিভীষিকা! জেনেনিন কেন এই বছরে কেন বিয়ে হয় না চীনে

প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকে। চিনও এর ব্যতিক্রম নয়। বহু বছর ধরে চলে আসা রীতিনীতি ও কুসংস্কার আজও তাদের সংস্কৃতিতে গেঁথে আছে। এর মধ্যে একটি হল বিধবা বর্ষ বা উইডো ইয়ার।

চিনাদের বিশ্বাস, এই বছরটি শুভ কাজের জন্য অশুভ। বিশেষ করে বিয়ের মতো শুভ কাজ এড়িয়ে চলেন তারা। চিনে বিধবা বর্ষকে ড্রাগনের বছরও বলা হয়।

এই বছর নিয়ে কী কী বিশ্বাস-ধ্যানধারণা রয়েছে:

বসন্তের অনুপস্থিতি: বিধবা বর্ষকে গুনা নিয়ান বলা হয়, যার অর্থ “যে বছর বসন্ত শুরু হয় না”। ধারণা করা হয়, এই বছরে বসন্তের অনুপস্থিতি পুরুষালি শক্তির অভাবকে প্রতিনিধিত্ব করে।
অশুভ বিবাহ: বিধবা বর্ষে বিয়ে হলে স্বামীর অকাল মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।
ইয়াং শক্তির অভাব: চিনা কুসংস্কার অনুসারে, লিচুন (বসন্তের আগমন) হল ইয়াং শক্তির (পুংলিঙ্গ শক্তি) সময়। বিধবা বর্ষে লিচুন না ঘটা ইয়াং শক্তির অভাবকে নির্দেশ করে।

এই কুসংস্কারের প্রভাব:

বিয়ের সংখ্যা হ্রাস: বিধবা বর্ষে বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
সামাজিক চাপ: বিধবা বর্ষে বিয়ে করতে চাইলে অনেককেই সামাজিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়।
অন্ধবিশ্বাসের বিরোধিতা: সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই এই কুসংস্কারের বিরোধিতা করছেন। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দিনক্ষণ দেখে বিয়ে করছেন।

বিধবা বর্ষ চিনা সংস্কৃতির একটি অংশ। কুসংস্কার হলেও এটি তাদের ঐতিহ্য। যদিও অনেকেই এখন এই কুসংস্কারের বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছেন।