মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁস করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপ, চক্রের প্রধানের হদিশ পেল পর্ষদ

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে তদন্তে নেমে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ একটি চক্রের হদিশ পেয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় তৈরি করা গ্রুপের মাধ্যমে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

শনিবার পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, 161 সদস্যের একটি গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে। এই গ্রুপের অ্যাডমিন একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং তাকেও চিহ্নিত করা গেছে। তবে গ্রুপের বাকিদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বাংলা পরীক্ষার দিন এবং শনিবার ইংরেজি পরীক্ষার দিন প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। দু’দিনই মালদায় এই ঘটনা ঘটেছে।

পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার এনায়েতপুর হাই স্কুল থেকে ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

বাংলা পরীক্ষার দিন প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। শনিবার এনায়েতপুর হাই স্কুল থেকে 7 জন, ভগবানপুর কেবিএস হাই স্কুল থেকে 4 জন এবং আমগুড়ি রামমোহন হাই স্কুল থেকে 1 জনের পরীক্ষা বাতিল করা হয়। অভিযুক্তদের থেকে 12টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছেন, এনায়েতপুর হাই স্কুল থেকে ধরা পড়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যেই একজন প্রশ্ন ফাঁস গ্রুপের অ্যাডমিন। শুধু তাই নয়, সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্নপত্র ভাইরাল করার আগে তা একজন শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তিনিই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাধ্যমিক শুরুর প্রথম দু’দিনেই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। অন্যদিকে এই ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর পদত্যাগ দাবি করে সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধীরা।