বিশেষ: রাজনীতিতে নীতীশের জোটবদল, জেনেনিন NDA ও INDIA -র লাভ-ক্ষতির হিসেব

১৯৯২ সালের গাইসাল ট্রেন দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন নীতীশ কুমার। সেই ঘটনায় তিনি যে নৈতিকতাবোধের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা দেশের রাজনীতিতে নজিরবিহীন। কিন্তু পরবর্তী কালে সেই নীতীশ কুমারকেই দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বারবার জোট বদল করতে। তার এই দৌড়ঝাঁপের কারণেই তিনি ‘পাল্টুরাম’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

২০১৩ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান পদে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়োগের প্রতিবাদে এনডিএ থেকে বেরিয়ে আসেন নীতীশ। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে বিহারে বিজেপির প্রচার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তেমন ভালো ফল করতে পারেনি।

লোকসভা নির্বাচনে হারের পর লালুর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নেন নীতীশ। ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জোট জয়ী হয় এবং নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু এই জোটের ফলে নীতীশের দল জেডিইউর আসন সংখ্যা কমে যায়।

২০১৭ সালে ফের এনডিএতে যোগ দেন নীতীশ। কিন্তু ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জোট আবারও পরাজিত হয় এবং নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়।

গত বছরের নভেম্বর মাসে আবারও লালুর সঙ্গে জোট করে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেন নীতীশ। কিন্তু এই জোটও এবার পরাজিত হয়।

এইভাবে নীতীশ কুমার বারবার জোট বদলের কারণে তার দল জেডিইউর অবস্থা খারাপ হয়েছে। প্রশান্ত কিশোরের মতে, নীতীশের জোট বদল বিহারের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

নীতীশ কুমারের জোট বদলের কারণ

নীতীশ কুমারের জোট বদলের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, তিনি ক্ষমতার লোভে জোট বদল করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, তিনি বিহারের উন্নয়নের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেন।

ক্ষমতার লোভের কারণে জোট বদলের পক্ষের যুক্তি হল, নীতীশ কুমার বারবার যে দলের সঙ্গে জোট করেছেন, সেই দলই বিহারের ক্ষমতায় ছিল। ফলে তিনি সহজেই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন।

বিহারের উন্নয়নের স্বার্থে জোট বদলের পক্ষের যুক্তি হল, নীতীশ কুমার মনে করেন যে, বিহারের উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী সরকারের প্রয়োজন। সেই কারণে তিনি সেই দলের সঙ্গে জোট করেন, যাকে তিনি মনে করেন যে, বিহারের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

নীতীশ কুমারের জোট বদলের প্রভাব

নীতীশ কুমারের জোট বদলের কারণে বিহারের রাজনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিহারের মানুষ এখন নীতীশ কুমারের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।