রাতে হাসপাতালে লোক থাকে না! সরকারি হাসপাতালে X-Ray হল না মন্ত্রীর

বর্তমান রাজ্য সরকারে আমলে বাংলার চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন বিভিন্ন মন্ত্রী তথা শাসকদলের নেতারা। কিন্তু এবার সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরিষেবা না পাওয়ার কথা শোনা গেল খোদ রাজ্যের মন্ত্রীর মুখে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার। শৌচাগার থেকে বেরনোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট লাগে তাঁর। সন্ধ্যা হতেই ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকায় তিনি চিকিৎসার জন্য যান মেমারী গ্রামীণ হাসপাতালে।
সেখানে চিকিৎসক দেখার পর জানান মন্ত্রীর এক্স-রে করার প্রয়োজন আছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মত মন্ত্রী এক্স-রে করার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই হাসপাতালের তরফে জানান হয়, হাসপাতালে ওপিডি-র সময় এক্স-রে হলেও রাতে এক্স-রে করার কোনও ব্যবস্থা নেই।
এই কথা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যান মন্ত্রী। গাড়িতে উঠতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেই মন্ত্রী জানান, এতবড় হাসপাতালে রাতে এক্স-রে হয় না এটা তাঁর জানায় ছিল না। এরপরেই তাঁর সংযোজন, তিনি চেষ্টা করবেন মানুষের সুবিধার্থে হাসপাতালে যাতে রাতেও এক্স-রে করা যায়।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে সরকারের দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজের হাসপাতালেও রাতে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই।
এই ঘটনায় বিজেপি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিজেপির দাবি, একজন মন্ত্রীর চিকিৎসার যদি এই হাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ওই হাসপাতাল থেকে কতটা পরিষেবা পান সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।
এই ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তিমূলে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা।