‘কিছু পেতে গেলে দিতেও হবে!’ -বাংলায় আসন ভাগ নিয়ে TMC-কে খোঁচা জয়রাম রমেশের

পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোটের আগে ইন্ডিয়া জোটের জটিলতা আরও বাড়ছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল কংগ্রেস আসন ভাগাভাগির বিষয়ে একমত হতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে দুই দলের নেতাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

গতকাল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ট্রোজেন হর্স বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “অধীর চৌধুরী কোনও ট্রোজেন হর্স নন। তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁকে পার্টি চালাতে হবে। দলের সংগঠন মজবুত করতে হবে। কর্মীদের জোশে রাখতে হবে। কখনও কখনও দুই দলেরই নেতারা কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে নানা মন্তব্য করে ফেলেন। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা ইন্ডিয়া জোটের অআংশ। কংগ্রেস এবং তৃণমূলের একটাই উদ্দেশ্য, BJP-কে পরাস্ত করা।”

অভিষেকের এই মন্তব্যের পালটা জবাব দিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তিনি বলেন, “আমি সংবাদমাধ্যমে পড়েছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন ৪২টি আসনেই লড়াই করতে। তবে আমরা চাই আসন সমঝোতা হোক। আমাদের দিক থেকে আলোচনার পথ খোলাই রয়েছে। যখন দুই দল সমঝোতার রাস্তায় হাঁটে, তার মূল অর্থ হল লেনদেন। কিছু নিতে গেলে কিছু দিতেও হবে। কেবল নিলে হবে না। দিতেও হবে। আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই এই সিট শেয়ারিং ফর্মুলা দুই দলের পক্ষ থেকেই ঘোষণা করা হবে। এখন তো একতরফা ঘোষণা হয়েছে। আমরা তো কিছু বলিইনি এখনও।”

জয়রামের এই বক্তব্যের পর অভিষেক আবারও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “গত সাত মাস ধরে অধীর চৌধুরী নাগাড়ে কী কী মন্তব্য করে চলেছেন, সেটা সবাই জানে। কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি এবং দলের লোকসভার নেতা হয়ে তিনি সরাসরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছেন। অথচ সেই কংগ্রেসই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে মনে করছে। অধীর চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়তে বলছেন। এবার দেখে নিন বাংলায় জোট না হওয়ার পিছনে কে দায়ী। প্রেসিডেন্ট রুল জারি করতে বলছেন তিনি। এতেই বোঝা যাচ্ছে,কে BJP-র হাত শক্ত করার চেষ্টা করছে। গত সাত মাস ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্তে আসার জন্য জানাচ্ছেন। অথচ কোনও চেষ্টাই নেই তাদের। দুর্ভাগ্যজনক।”

এই বাকযুদ্ধের মধ্যে তৃণমূল একতরফাভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা বাংলায় ৪২টি আসনেই লড়বে। কংগ্রেস এখনও এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, মনে করা হচ্ছে যে এই বাকযুদ্ধের কারণে বাংলায় ইন্ডিয়া জোটের সম্ভাবনা আরও কমে যাচ্ছে।