অভাবের সংসারে ফুটবলের স্বপ্ন, বাড়ির সব দায়িত্ব সামলেও মাঠ কাঁপাচ্ছেন কবিতা

হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া হিজুলি গ্রামের সাঁওতাল পরিবারের কন্যা কবিতা সরেন। অভাব-অনটনের সংসারে ফুটবলের স্বপ্ন বুনে চলেছেন তিনি। সংসারে এক পুত্র সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে দিব্য সংসার সামলে ফুটবল পায়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন এই তরুণী। স্বামীর পাশাপাশি চাষের কাজে সাহায্য করেন তিনি। মাঠ থেকে ফিরে ধরতে হয় সংসারের হাল।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছিল কবিতার। বিয়ের পরেও সেই ভালোবাসায় ছেদ পড়েনি। তবে তার জন্য তাঁকে অনেক গুঞ্জনা শুনতে হয়েছে প্রতিবেশী ও শ্বশুর বাড়ির কাছে। তবে তাঁর জেদের কাছে হার মেনেছে সবকিছুই।

আর্থিক পরিস্থিতি ভালো না হওয়ার কারণে ছোটবেলায় কোচিংয়ের সুযোগ পাননি কবিতা। তবে হাল ছাড়েননি। নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে উঁচু-নিচু বন্ধুর পথকেও মসৃণ করেছেন। বাড়ি থেকে ১২ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে হরিপাল স্টেশন থেকে কলকাতায় পৌঁছাতে হয় প্র্যাকটিস করতে। বর্তমানে শ্রীভূমি এফসি-র সুজাতা করের কাছে অনুশীলন করছেন তিনি।

পরপর দু’বছর কন্যাশ্রী কাপে চ্যাম্পিয়ন করেছেন নিজের টিমকে। কলকাতার একাধিক ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। এছাড়া দু’টি ন্যাশনাল ও দু’টি ইউনিভার্সিটি ফুটবল টিমেও খেলেছেন। ২০২৩ সালে মহিলা ফুটবলার কন্যাশ্রী কাপে শ্রীভূমির হয়ে আটটি গোল করেন তনি।

অভাবের সংসারে খেলে যতটুকুই উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চলে। স্বামী একজন ভাগচাষি। অর্থের অভাবে বড় কোনও জায়গায় খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না কবিতা। কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে ভালো হয়। আগামী দিনে জাতীয় মহিলা ইন্ডিয়া টিমের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলতে চান তিনি।

কবিতার স্বামী নিরঞ্জন বলেন, বিয়ের পর অনেকেই খেলতে দেয় না, কিন্তু স্ত্রী আমাকে জানিয়েছিল সে অনেক বড় জায়গায় খেলতে চায়। আমি তাকে কখনও বাধা দিইনি, বরং তাকে উৎসাহিত করেছি। বিয়ের পরেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে। অন্যের কথায় কান না দিয়ে স্ত্রীকে খেলায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছি। তবে সে নিজেও কঠোর পরিশ্রম করেছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন, কোনও চাকরি পেলে তবে তার পরিশ্রম সার্থক হবে।

অভাব-অনটনের সংসারে ফুটবলের স্বপ্ন বুনে চলেছেন কবিতা। তার স্বামীর সমর্থন ও নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একদিন বড় মাঠে খেলার স্বপ্ন পূরণ করবেন বলে আশা করা যায়। সরকারের পক্ষ থেকেও তার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হলে তার পথ আরও সহজ হবে।