ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থানচ্যুত মাস্ক! বাজিমাত করলো কে?,কত নম্বরে এখন আদানি-আম্বানি?

বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় প্রায়ই পরিবর্তন দেখা যায়। সম্প্রতি, এই তালিকায় একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ফোর্বসের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ফরাসি বিলাসবহুল পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান LVMH-এর প্রধান নির্বাহী বার্নার্ড আর্নল্ট বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি টেসলা এবং SpaceX-এর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককে সরিয়ে দিয়েছেন।

আর্নল্টের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ২০৭.৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮১.৩ বিলিয়ন ডলার। টেসলার শেয়ারের দরপতনের কারণে মাস্কের সম্পদের এই হ্রাস ঘটেছে।

আর্নল্টের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির পেছনে LVMH-এর শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪-এ LVMH-এর শেয়ারের দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশে আরও যারা রয়েছেন তারা হলেন:

তৃতীয় স্থানে জেফ বেজোস (১৮১.৩ বিলিয়ন ডলার)
চতুর্থ স্থানে ল্যারি এলিসন (১৪২.২ বিলিয়ন ডলার)
পঞ্চম স্থানে মার্ক জুকারবার্গ (১৩৯.১ বিলিয়ন ডলার)
ষষ্ঠ স্থানে ওয়ারেন বাফেট (১২৭.২ বিলিয়ন ডলার)
সপ্তম স্থানে ল্যারি পেজ (১২৭.১ বিলিয়ন ডলার)
অষ্টম স্থানে বিল গেটস (১২২.৯ বিলিয়ন ডলার)
নবম স্থানে সের্গেই ব্রিন (১২১.৭ বিলিয়ন ডলার)
দশম স্থানে স্টিভ বলমার (১১৮.৮ বিলিয়ন ডলার)

এই পরিবর্তনটি দেখায় যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। LVMH-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি এই চাহিদা পূরণ করে। অন্যদিকে, টেসলার শেয়ারের দরপতনের কারণে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় দুই ভারতীয় ধনকুবেরের নাম রয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ১১তম স্থানে এবং আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ১৬তম স্থানে রয়েছেন।

মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৪.৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৫.৭ বিলিয়ন ডলার।

মুকেশ আম্বানি এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তিনি টেলিযোগাযোগ, তেল ও গ্যাস, কেমিক্যাল, পাওয়ার এবং রিটেইল ব্যবসার মাধ্যমে তার সম্পদ অর্জন করেছেন।

গৌতম আদানি পরিবহন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস, অবকাঠামো এবং লজিস্টিকসের ব্যবসার মাধ্যমে তার সম্পদ অর্জন করেছেন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের উত্থানের ইঙ্গিত

এই দুই ভারতীয় ধনকুবেরের বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের উত্থানের ইঙ্গিত দেয়। ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক বাজারে তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছেন।