দুই বিচারপতির সংঘাতের জেরে বড় পদক্ষেপ! জেনেনিন কী নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্ট?

কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতির সংঘাতের জেরে রাজ্যে মেডিকেলে ভর্তি দুর্নীতি মামলা সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। মামলার সব পক্ষকে আদালতে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। কিন্তু, রাজ্য সরকার সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেন।

শুনানিতে রাজ্যের তরফে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানির বিরুদ্ধে সওয়াল করা হয়। বিচারপতির নাম উল্লেখ না করেই রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ”সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি পদযাত্রায় যাচ্ছেন।”

শুধু তাই নয়, একক বেঞ্চে মামলা থেকে গেলে ফের একই ঘটনা ঘটবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন রাজ্যের আইনজীবী।

অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, অতীতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ থেকে একটি মামলা সরিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এতকিছুর পরও তিনি ‘অবাঞ্ছিত’ মন্তব্য করেই চলেছেন।

সমস্ত বিষয় শোনার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, “সিঙ্গল এবং ডিভিশন বেঞ্চ নিয়ে যা হচ্ছে তা ঠিক নয়। আমরা সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। কলকাতা হাই কোর্টের মর্যাদা যাতে কোনও ভাবেই ক্ষুন্ন না হয় সেই দিকে নজর রাখতে হবে। কোন বেঞ্চে কোন মামলা যাবে, তা ঠিক করবেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি।”

প্রসঙ্গত, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে ওঠে। রাজ্য পুলিশের ওপর ‘ভরসা’ না থাকায় এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের ওপর মৌখিক স্থগিতাদেশ জারি করে ডিভিশন বেঞ্চ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌমেন সেনকে বিচারপতির পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুই বিচারপতির বেনজির সংঘাতের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয় সুপ্রিম কোর্ট।