সুপ্রিমকোর্টে রায় যা-ই হোক, মেধার জোরে স্বপ্ন ছুঁতে চান মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ইতিশা সোরেন চেয়েছিলেন তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী সংরক্ষিত তালিকায় কোনও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেতে। তাঁর সেই মামলার সূত্র ধরেই মেডিক্যালে ভর্তিতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই দুর্নীতির রহস্যভেদে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং ডিভিশন বেঞ্চের তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া নিয়েই সামনে এসেছে দুই বিচারপতির নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব।

ইতিশা সোরেন ২০২২ ও ২০২৩— পরপর দু’বছরই মেডিক্যালের নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন। তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নম্বর পেলেই কোয়ালিফাই করার কথা। কিন্তু তিনি দু’বারই ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু কোনওবারই সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ আসেনি।

গতবার কাউন্সেলিংয়ের পর একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু সেখানে প্রতি বছর পড়ানোর যা খরচ, ইতিশার পরিবারের পক্ষে তা চালানো দুষ্কর।

ইতিশার বাবা সুনীল সোরেন বলেন, “আমার বড় মেয়ে এম-টেক পাস করে চাকরির চেষ্টা করছে। ছোট মেয়ে ইতিশা বরাবরই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। কিন্তু সুযোগ পাওয়ার পরেও শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্য না-থাকায় ওকে ডাক্তারিতে ভর্তি করতে পারিনি। বাবা হিসেবে আমি নিজেও হতাশ। মেয়েও একেবারে ভেঙে পড়েছিল। এই অবস্থায় অনেকের সঙ্গে কথা বলার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু তার যে এমন মারাত্মক ফল হবে, সেটা বুঝতে পারিনি।”

সুনীলবাবু বলেন, “ইতিশা আমাকে জানিয়েছে, আদালতে কী হবে, না হবে— সেটা নিয়ে ভাবছে না। এ বছর আবার নিট পরীক্ষায় বসতে চায়। কারণ আদালত যদি সুযোগ না দেয়, সে ক্ষেত্রে নিজের মেধার জোরেই সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করে ও ডাক্তার হতে চায়।”

একটা মামলায় দুই বিচারপতির সংঘাতের জেরে যে ভাবে গোটা দেশের বিচারব্যবস্থায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে, তাতে মামলাকারী হিসেবে খানিকটা চিন্তাতেই রয়েছে ছাপোষা মধ্যবিত্ত পরিবারটি। মেয়েকে বাইরের লোকের যোগাযোগ থেকে আপাতত কিছু দিন দূরে রাখার চেষ্টা করছে গোটা পরিবার।

সুনীলবাবুর কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়াকে তো আটকাতে পারছি না। তবু চেষ্টা করছি, যতটা সম্ভব বিষয়টা থেকে মেয়েকে দূরে রাখতে। মেয়ে মানসিক ভাবে বিমর্ষ হয়ে রয়েছে। একটা মামলা করে তা নিয়ে গোটা দেশের মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে হবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।

ইতিশার মামলা সারা দেশের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই মামলার মাধ্যমে মেডিক্যাল ভর্তিতে দুর্নীতির রহস্যভেদ হলেও, সেই দুর্নীতির মূল হোতাদের শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা এখনও বলা মুশকিল। তবে ইতিশার মামলার মাধ্যমে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে মেডিক্যাল ভর্তিতে দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।