সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান খুলতে বাধা, প্রতিবাদীকে মারধরের অভিযোগ

শনিবার কলমবাগানে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান চালু করতে এসে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে দোকান খুলতে পারেননি আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। এরপরেই প্রতিবাদী এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠল দোকান মালিক এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে।

বনগাঁ থানার কলমবাগান এলাকায় প্রদীপকুমার রায় নামে এক ব্যক্তির নামে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান চালু করার অনুমতি দেয় রাজ্য আবগারি দপ্তর। কিন্তু মদের দোকান খোলার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং মামলায় জয়ী হন প্রদীপ।

আদালতের নির্দেশে শনিবার কলমবাগানে মদের দোকানটি খুলতে এসেছিলেন আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। কিন্তু জনবহুল এলাকায় মদের দোকান চালু করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবগারি দপ্তরের আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এরপরেই উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা বনগাঁ-বাগদা রোড অবরোধ করেন।

আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বনগাঁ থানার পুলিশের সাহায্য নেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

আবগারি দপ্তরের আধিকারিকদের চলে যাওয়ার পরেই প্রতিবাদী সুমন বিশ্বাসকে মারধরের অভিযোগ উঠল দোকান মালিক প্রদীপকুমার রায়-সহ তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এলাকায় শান্তি চাই। মদের দোকান চালু হলে নেশারুদের উপদ্রবে এলাকার শান্তির পরিবেশ নষ্ট হবে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়েই মদের দোকানের মালিক প্রদীপকুমার রায় এবং তাঁর দলবল আমায় মারধর করেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা গণেশ বিশ্বাস বলেন, ‘মদের দোকানের পাশে একটা মন্দির আছে। প্রচুর মানুষ পুজো দিতে আসেন। তাঁদেরও আপত্তি রয়েছে।’

দোকান মালিক প্রদীপকুমার রায় বলেন, ‘রাজ্য আবগারি দপ্তর মদের দোকান খোলার জন্য আমায় লাইসেন্স দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা এসেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন বাধা দেওয়ায় দোকান খুলতে পারা যায়নি।’

বনগাঁ রেঞ্জের আবগারি দপ্তরের ডেপুটি কালেক্টর মহানন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘কোর্টের অর্ডারে আমরা দোকান খুলতে এসেছিলাম। মানুষের আন্দোলনের জেরে আমরা দোকান খুলতে পারিনি।’