মিউটেশনের জন্য সওয়া ২ কোটি দাবি! পুরসভার ঘটনায় ভিজিল্যান্সকে ও ডিএম-কে তদন্তের নির্দেশ

কলকাতা হাইকোর্ট খড়দহ পুরসভার তোলাবাজির অভিযোগে বিস্ফোরক। খড়দহ পুরসভা এলাকায় দু’টি সম্পত্তির মিউটেশনের জন্য একটি বাণিজ্যিক সংস্থার কাছে প্রায় সওয়া ২ কোটি টাকা দাবি করেছে পুরসভা। সম্পত্তির মিউটেশন ফি হিসেবে এই বিপুল টাকা দাবি করায় আদালত চরম বিস্মিত ও হতভম্ব।
উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে গোটা ঘটনা অনুসন্ধান করে দেখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ভিজিল্যান্স দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভার চেয়ারম্যানের সই করা ওই নোটিস আদালত খারিজ করেছে। পাশাপাশি, পুরসভার চেয়ারম্যানকে ফের সব দিক খতিয়ে দেখে গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি সংস্থার কেনা ওই দু’টি সম্পত্তির মিউটেশন ফি কত হবে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ— আগামী সাত দিনের মধ্যে খড়দহের পুর চেয়ারম্যানকে সেই ফি-র ব্যাপারে জানাতে হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে পুর চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগত ভাবে এই জটিলতার মীমাংসা করতে হবে।
আদালত সূত্রের খবর, ফ্রন্টিয়ার ওয়্যার হাউস নামে একটি সংস্থা গত বছর খড়দহ পুরসভা এলাকায় দু’টি সম্পত্তি কিনে সেখানে লজিস্টিক্স বিজনেস করার পরিকল্পনা করে। সেই দু’টি সম্পত্তির মিউটেশনের জন্য পুরসভায় আবেদন করেছিল সংস্থাটি।
সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর নভেম্বরে খড়দহ পুরসভার চেয়ারম্যানের সই করা একটি নোটিস পায় সংস্থাটি। তাতে বলা হয়, মিউটেশনের জন্য ২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা মতো জমা দিতে হবে পুরসভাকে। সেই নোটিস চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করে ওই সংস্থা।
গত শুক্রবার বিচারপতি মান্থা ফি বাবদ এত টাকার অঙ্ক দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এটা আসলে সংস্থার থেকে তোলাবাজির একটা রাস্তা কি না, আদালত তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। তার পরেই জেলাশাসক ও ভিজিল্যান্সকে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
খড়দহ পুরসভার চেয়ারম্যান নীলু সরকার বলেন, ‘আমরা জমির মিউটেশন করার ক্ষেত্রে জমির নির্ধারিত মূল্যের উপর সাধারণত ১ শতাংশ কর নিয়ে থাকি। আর এই করের উপর নির্ভর করে পুরসভার বাকি কাজ চলে। প্রচুর সংখ্যক পুরকর্মীর বেতন দেওয়া, সাফাইয়ের সরঞ্জাম কেনা, নাগরিক পরিষেবা দেওয়া— এই সব কাজ হয়।
পুর চেয়ারম্যানের বক্তব্য, ‘আমরা আইন মেনে কাজ করেছি। জেলাশাসকের চিঠি পেয়েছি। পুরসভা যে কোনও টাকা নিলে তার বিনিময়ে রিসিভ কপি দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত আমরা কোনও টাকা নিই না।’
এর আগে রাজারহাট পুরসভার একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, মিউটেশনের জন্য দেওয়া অর্থ কোনও কর বা ট্যাক্স নয়— এটি একটি ফি। ফলে, মিউটেশন বাবদ কর হিসেবে টাকা নিলে সেটা বেআইনি, এমনটাই ছিল হাইকোর্টের বক্তব্য।
কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশে খড়দহ পুরসভার তোলাবাজির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। দেখার বিষয় হল, তদন্তের পর পুরসভার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।