বার বার পুলিশকে ফোন করেও লাভ হল না, দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার এক সাংবাদিক

তামিলনাড়ুর ত্রিপুরের বাসিন্দা টেলিভিশন জার্নালিস্ট নেশা প্রভু বেআইনি মদ কেনাবেচা নিয়ে রিপোর্টিং করছিলেন। এই নিয়ে খবর করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন মাফিয়ার বিরাগভাজন হয়েছিলেন তিনি।
বুধবার রাতে প্রভু পুলিশ কন্ট্রোলরুমে ফোন করে জানান, নম্বর প্লেটহীন একটি বাইকে বেশ কয়েকজন তাড়া করছে তাঁকে। তিনি কোন এলাকায় রয়েছেন, সেখানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই পুলিশ বাইকটিকে শনাক্ত করতে পারবে— এই সব কথাই জানিয়েছিলেন প্রভু।
কিন্তু পুলিশ তাঁকে সাহায্য করেনি। উল্টে নিকটবর্তী থানায় তাঁকে রিপোর্ট লেখাতে বলা হয়।
পুলিশকে করা প্রভুর ফোন কলের অডিয়ো রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। রেকর্ডিংয়ে শোনা যাচ্ছে, পুলিশের কাছে বার বার সাহায্য চাইছেন প্রভু। বোঝাতে চাইছেন, তাঁর জীবন বিপন্ন।
পুলিশকে জানান, বাড়ির কাছে একটি দোকানে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন। গাড়ি নিয়ে তাঁর বাড়িতেও চড়াও হয়েছিল, তবে প্রভুর মা একা বাড়িতে থাকায় বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি।
পুলিশকে ফোনের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় আক্রান্ত হন প্রভু। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি, অবস্থা সঙ্কটজনক।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন হামলার কড়া নিন্দা করেন। তাঁর দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকের ফোন পেয়েও যিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি, সেই পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রভুর চিকিৎসার জন্য ৩ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য ঘোষণা করেছেন স্ট্যালিন।
ঘটনার বিরুদ্ধে সরব তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এডাপাড্ডি কে পালানিস্বামী। তাঁর বক্তব্য, ‘হামলার ঘণ্টা চারেক আগে সাংবাদিক বার বার ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এটা নিন্দনীয়। তামিলনাড়ুতে কোনও নিরাপত্তা নেই, আইন-শৃঙ্খলা নেই। আমি বার বার বলেও লাভ হয়নি। অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদে, স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তামিলনাড়ু সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’