“রামলালা বদলে গিয়েছেন, এ তো আমার তৈরি মূর্তি নয়!”-দেখে অবাক শিল্পী অরুণ যোগীরাজ

অযোধ্যায় রাম মন্দিরের রামলালা মূর্তির ফার্স্ট লুক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিল্পী অরুণ যোগীরাজ লাইমলাইটে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর, অলংকারে সুসজ্জিত রামলালার মূর্তি ছবি-ভিডিয়ো সামনে আসতেই, রামভক্তরা মুগ্ধ হয়েছেন।

অরুণ যোগীরাজের মূর্তি নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে ভক্তরা আগ্রহের সাথে লক্ষ্য রেখেছেন। রামলালার মুখের নিষ্পাপ হাসি, শান্ত দৃষ্টি, এবং পাঁচ বছরের শিশুর অকৃত্রিম চেহারা দেখে ভক্তরা মুগ্ধ হয়েছেন।

অরুণ যোগীরাজের মূর্তি নির্মাণের অভিজ্ঞতাও বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি বলেছেন, “রামলালার মুখের আবেগময় জটিলতা ফুটিয়ে তোলা ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি পাঁচ বছরের ছেলের মুখের প্রতিটি অভিব্যক্তির দিকে খেয়াল রেখেছি।”

অরুণ যোগীরাজের রামলালা মূর্তি রামভক্তদের কাছে শুধুমাত্র একটি মূর্তি নয়, বরং ভগবান রামের এক আধ্যাত্মিক প্রতিমূর্তি। এই মূর্তি রামভক্তদের মনে রামায়ণ যুগের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে।

অরুণ যোগীরাজ আরও বলেন, ‘লালাকে একদম অন্যরকম দেখতে লাগছে। মনে হচ্ছে যে এ আমার তৈরি মূর্তিই নয়। অলংকার পরার পর ভগবান রামেপ রূপ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।’ সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে এমনটাই জানিয়েছেন দক্ষিণের এই ভাস্কর্য শিল্পী। তাঁর বক্তব্য, ‘নির্মাণের সময় অন্যরকম ছিলেন রামলালা। প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর তা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। আমার মনে হচ্ছে, এটা আমার তৈরি মূর্তিই নয়। এই মূর্তিটিকে তো একদম অন্যরকম দেখতে লাগছে। ভগবান ভিন্নরূপ ধারণ করেছেন। অলংকার ধারণের পর রামলালাকে একদম অন্যরকম দেখতে লাগছে।’

অরুণ যোগীরাজের কথায়, ‘আমার লালা আমায় আদেশ দিয়েছিলেন। আমি শুধুমাত্র সেই আদেশ পালন করেছি।’ গত সাত মাস এই মূর্তি নির্মাণের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিল্পী বলেন, ‘শিল্প শাস্ত্র মোতাবেক যেন মূর্তি নির্মাণ হয়, এইটুকুই চিন্তা ছিল আমার। পাঁচ বছরের বালকের রূপ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। যাতে রামলালার মুখে সেই নিষ্পাপ ভাব প্রকাশ পায়।’