শাশুড়ির বায়নায় গোয়ার বদলে অযোধ্যায় হানিমুন! বরের কাছে ডিভোর্স চাইলেন বউমা

ভোপালের এক নববধূ হানিমুনের জন্য গোয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু, স্বামী তাঁকে অযোধ্যা নিয়ে গেলেন। এরপরই স্বামীর বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলা দায়ের করলেন তিনি।
গত বছর অগাস্ট মাসে ভোপালের পিপলানি এলাকায় বিয়ে হয় এই দম্পতির। নববধূ জানান, তাঁর স্বামী IT সেক্টরে ভালো চাকরি করেন। তিনিও মাসে ঠিকঠাক রোজগার করেন। তাই গোয়া ট্রিপ তাঁদের কাছে এমন কোনও বড় বিষয় ছিল না।
নববধূ জানান, তাঁর স্বামী প্রথমেই বিদেশে হানিমুনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বাড়িয়ে বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখভালের অজুহাতে দেশের মধ্যেই কোনও পর্যটন স্থলে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। স্ত্রী তাতে রাজিও হয়ে যান।
এরপরই তাঁরা গোয়া এবং দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার প্ল্যান করেন। কিন্তু, টিকিট বুক করার সময় স্বামী স্ত্রীকে না জানিয়ে গোয়ার বদলে অযোধ্যার বিমান টিকিট বুক করে ফেলেন। অযোধ্যা এবং বারাণসীর গোটা ট্যুর প্ল্যানও করে নেন তিনি। এমনকী, হানিমুনে নিজের মাকেও নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন একলাই।
ট্যুরে যাওয়ার ঠিক একদিন আগে স্ত্রী জানতে পারেন তাঁরা হানিমুনে গোয়া নয়, অযোধ্যা-বারাণসী যাচ্ছেন এবং সঙ্গে যাচ্ছেন তাঁর শাশুড়ি। রাগে ফুঁসে উঠলেও সেদিন কিচ্ছুটি বলেনি অগ্নিশর্মা স্ত্রী।
হানিমুন ট্রিপ সেরে ফেরার ১০ দিনের মাথায় ডিভোর্স চেয়ে পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন নববধূ। তাঁর অভিযোগ, স্বামী তাঁর প্রতি যত্নশীল নন। বাড়ির লোককে বেশি গুরুত্ব দেন।
কাউন্সেলিংয়ে ডেকে পাঠানো হলে স্বামীর সাফাই, রাম মন্দির উদ্বোধনের আগে অযোধ্যাধামে যাওয়ার আকাঙ্খা ছিল তাঁর মায়ের। ফলে গোয়ার ট্রিপ বাতিল করে মাকে নিয়ে অযোধার প্ল্যান করেন তিনি। সেই মতো টিকিটও কেটে ফেলেন তিনজনের। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার স্ত্রী একটি সামান্য বিষয় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ঝামেলা করছে। শুধু শুধু একটি ঘরোয়া ইস্যুকে আদালতে টেনে এনেছে।’
ভোপাল পারিবারিক আদালতের আইনজীবী সাহিল অবস্তি জানান, এই দম্পতির কাউন্সেলিং চলছে বর্তমানে। তবে এই ইস্যুতে আদৌ কোনও সমাধান বেরোবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দই তরফে পারিবারই।