স্বামীর অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অনড় সোনিয়া, বাংলাদেশে ফেরার আগে অঙ্গীকার মহিলার

দিল্লির বাসিন্দা সৌরভ তিওয়ারির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বাংলাদেশের সোনিয়া আখতারের। বিয়ের এক বছরের মাথায় দম্পতির একটি পুত্র সন্তানও হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের কয়েকদিন পরেই ভারতে ফিরে যান সৌরভ। এরপর আর বাংলাদেশে ফেরেননি তিনি।
দীর্ঘদিন সৌরভের কোনও খবর না পেয়ে সন্দেহ হয় সোনিয়ার। এরপরেই ২০২৩ সালের ১ মে দেড় বছরের একরত্তিকে নিয়ে ভারতে চলে আসেন ওই মহিলা। দিল্লিতে সৌরভের খোঁজ মিললেও, স্ত্রী হিসেবে তাঁকে মানতে রাজি হননি তিনি।
স্ত্রী হিসেবে সৌরভ তাঁকে না মানায়, রাজধানী পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সোনিয়া আখতার। কিন্তু সেই সময় সোনিয়ার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায়, ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলেন। ওই বছর অগস্ট মাসে ফের ভারতে আসার পর দিল্লির একটি আদালতে সৌরভের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। সৌরভের সঙ্গে তাঁর বিয়ের প্রমাণও পেশ করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে ৩ ডিসেম্বর ভিসার মেয়াদ শেষ হয় সোনিয়ার। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর না হওয়ায়, বাধ্য হয়ে বুধবার বাংলাদেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে যাওয়ার সময় সোনিয়া আখতার জানিয়েছেন, তিনি আইনি লড়াই থেকে পিছু হটতে নারাজ। নিজের অধিকার ফিরে পেতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দিল্লির মহিলা কমিশন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবেদন করেছেন। ভিসা নিয়ে ফের ভারতে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সৌরভ তিওয়ারি দাবি করেছেন, মধুচক্রের ফাঁদে ফেলে সোনিয়া তাঁকে বিয়ে করেছিল। তিনি আগেই বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।