Ram Idol: বাংলা থেকে অযোধ্যাতে গিয়েছিল রামমূর্তি, প্রাণ প্রতিষ্ঠানের দিন আমন্ত্রণ পেলেন না জামালউদ্দিন

অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা আজ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে সারা দেশের মানুষের মতো হাবড়ার শিল্পী জামালউদ্দিনেরও রয়েছে গভীর আবেগ। তিনি তাঁর হাতে তৈরি দুটি ফাইবার দিয়ে তৈরি রামমূর্তি পাঠিয়েছেন অযোধ্যায়। সেই মূর্তিগুলিই আজ রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হবে।

রাম মন্দির উদ্বোধনে জামালউদ্দিনের আমন্ত্রণ ছিল না। তবে তিনি এদিন সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িকতা দাবানলের থেকেও ভয়ংকর। যে কোনও রাজনৈতিক দল সস্তার রাজনীতি করতে গিয়ে তা ব্যবহার করে। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকা উচিত, ধর্ম ধর্মের জায়গায় থাকা উচিত। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা একেবারেই সমীচীন নয়। সারা ভারতের মানুষের কাছে আমার আবেদন, তাঁরা যেন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টায় সাড়া না দেয়।”

জামালউদ্দিন জানান, তাঁর দোকান থেকে রামের মূর্তি নিয়ে গিয়েছে এটা একটা ভালো লাগার জায়গা। তবে তিনি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কারণ হয়তো তার কোনও যোগাযোগ নম্বর ওদের কাছে নেই। তাঁর দোকান থেকে নিয়ে যাওয়া রামের মূর্তি কোথায় বসবে তা স্পষ্ট নয়। জামালউদ্দিন বলেন, “যা যা জানতে পারছি সংবাদ মাধ্যম মারফত। কোথায় মূর্তি বসেছে তাও জানতে পেরেছি সংবাদ মাধ্যম মারফত।”

হাবড়ার এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আদালতের উপরে কেউ নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছে। সকলকেই মাথায় রাখতে হবে সবার উপর বিচার ব্যবস্থা। ব্যক্তিগত ভালো লাগা বা খারপ লাগা, মতামত থাকতেই পারে। কিন্তু, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।’

এদিকে, রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষেরাও উৎসাহিত। অনেকেই ‘অক্ষত চাল’ পাঠিয়েছেন অযোধ্যায়। বাংলাদেশি হিন্দুরা মনে করেন, রাম মন্দির নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার হয়েছে।

বাংলাদেশের হিন্দু নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা রাম মন্দির উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এটি ভারতের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাংলাদেশের হিন্দু নেতা প্রণব কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, “রাম মন্দির নির্মাণ ভারতের হিন্দুদের একটি বহু শতাব্দীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। এটি ভারতের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সুব্রত সেন বলেন, “রাম মন্দির নির্মাণ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহনশীলতার প্রতীক। এটি ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।”