দুই ফুলের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ের ডাক দিলো নওশাদ, কটাক্ষ করলো তৃণমূল

রবিবার কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় অ-তৃণমূল ও অ-বিজেপি শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপিকে হারাতে হলে অ-তৃণমূল ও অ-বিজেপি শক্তিকে একজোট হতে হবে।”
তবে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আইএসএফ কোন শক্তির হাত ধরবে, তা স্পষ্ট করেননি নওশাদ। বামেদের সঙ্গে তাঁরা জোট করবেন কি না, তাও স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি নিজে যে ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় দাঁড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন, সে কথা জানান।
আইএসএফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান ধর্মতলায় করতে চেয়েছিলেন আইএসএফ নেতৃত্ব। যদিও সেই অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। তাই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নওশাদ সিদ্দিকিরা। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ শর্ত সাপেক্ষে সভা করার অনুমতি দিলে রাজ্য সরকার তা চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সভা না-করে পরিবর্তে ইন্ডোরে সভা করার পরামর্শ দেয়।
তার ভিত্তিতেই এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভা করে আইএসএফ। ভাঙড়ে সমান্তরাল জনসভাও করা হয়। সেখানে আইএসএফের ভাঙড়ের নেতারা ছিলেন। ভাঙড়ের সভা ঘিরে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
ভাঙড়ের বিভিন্ন রাস্তার মোড়েও পুলিশি নজরদারি চালানো হয়। বড় কোনও অশান্তি না হলেও কচুয়া এলাকায় আনসারুল মোল্লা নামে এক আইএসএফ কর্মীকে তৃণমূল মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
আইএসএফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “বিজেপির টাকায় ভোট কাটার রাজনীতি করে এই দল। এরা এমন দল যারা অন্য দলের প্রতীকে লড়াই করে।” যদিও তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নওশাদ বলেন, “মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললেই আমাদের বিজেপির দালাল অথবা মুসলমানের পার্টি বলা হয়।”