Ram Mandir:নিজেদের রামের “প্রেমিকা” মনে করেন এই সম্প্রদায়ের পুরুষরা, পুজোর সময় মুখ ঢাকা থাকে ঘোমটায়

হিন্দু ধর্মে ভগবানকে বন্ধুরূপে পুজো করার অনেক উদাহরণ রয়েছে। রামভক্তিতেও এই উদাহরণ রয়েছে। এরই অনন্য সাক্ষী অযোধ্যার কনক ভবন মন্দির। সেখানে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পুরুষ নিজেদের রামের বান্ধবী বলে মনে করে।

কনক ভবন হল সেই মন্দির, যেখানে বনবাসে যাওয়ার আগে রাম ও সীতা থাকতেন। এই মন্দিরে রামকে ভালবাসে একটি সম্প্রদায় তাঁকে পুজো করে। এমন প্রেমিকদের এই সম্প্রদায়টি পরিচিত ‘রাম রসিক’ নামে।

রাম রসিকরা ভগবান রামকে প্রেম ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাঁরা নিজেদের রামের বান্ধবী বলে মনে করেন এবং তাঁকে ভগ্নিপতি হিসেবেও দেখেন। রাম রসিকরা যখনই ভগবান রামের আরতি করেন, তখনই তাঁরা মাথায় ওড়না ব্যবহার করেন।

রাম রসিকদের ঐতিহ্য বহু শতাব্দি ধরে চলে আসছে। সাধককবি রামানন্দ এই সম্প্রদায়কে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর শিষ্য ব্রাহ্মণ কৃষ্ণদাস সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে জয়পুরের কাছে গালতায় প্রথমবার রামানন্দ সম্প্রদায়ের আসন প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তাঁর দ্বিতীয় শিষ্য আগ্রাদাস রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে রসিক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর এখান থেকে এই সম্প্রদায় অযোধ্যা, জনকপুর ও চিত্রকূটে ছড়িয়ে পড়ে।

রাম রসিকদের সর্বাধিক উপস্থিতি কনক ভবন মন্দিরেই দেখা যায়। তবে তারা লক্ষ্মণ কেল্লাতেও রয়েছে। আচার্য পীঠ লক্ষ্মণকেল্লা রসিক পুজোর প্রাচীনতম পীঠ। রেওয়ার দেওয়ান দীনবন্ধুর বিশেষ অনুরোধে ১৮৬৫ সালে আচার্য জীবরামের শিষ্য স্বামী যুগলন্যা শরণের পবিত্র স্থানে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল।

এই মন্দিরে ভগবান রাম শুধুমাত্র দশেরার সময় অস্ত্র পরিধান করেন। দশেরার আগে এবং পরে, তিনি কেবল সীতার স্বামী। তিনি তাঁর বন্ধুদের ভগ্নিপতি এবং জগতের কর্তা। রাম রসিক শুধু রাম পূজাই করেন না, ভক্তির ভিত্তিতে রামকেও ভালবাসেন। এই সময় মন্দিরে বিয়ে সংক্রান্ত গানও গাওয়া হয়।