আশ্রমে এখনও রয়েছে গুলির দাগ, রাম মন্দির আন্দোলনের জীবন্ত সাক্ষী ওমশ্রী ভারতী

২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হতে চলেছে রাম মন্দির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে উদ্বোধন হবে মন্দিরের। তবে রাম মন্দির নির্মাণের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন সম্পর্কিত একাধিক প্রমাণ হারিয়ে গিয়েছে। তবে কিছু প্রমাণ আজও জ্বলন্ত।
অযোধ্যায় হনুমানগড়ীর কাছে একটি আশ্রম রয়েছে, যার উপরে লেখা রামায়ণী ওম শ্রী ভারতী লেখা। ৭৫ বছর বয়সী ওমশ্রী ভারতী, রামকথার কথক, এখানে থাকেন। তাঁর আশ্রমের বয়স ৬০০ বছর। ২২ ইঞ্চি পুরু দেওয়ালের এই আশ্রমের প্রতিটা ইট সাক্ষী আছে বহু ঘটনার।
১৯৯০ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর তিন দিনের মধ্যে অযোধ্যায় দু’বার গুলি চালানো হয়েছিল। প্রথমবার ওমশ্রী ভারতীর আশ্রম ও রাস্তায় গুলি চালানো হয়। এই রাস্তাটি বর্তমানে শহিদ গলি নামে পরিচিত। ৩৩ বছর আগেকার সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাজা। কর সেবকদের উপর গুলি চালানোর ঘটনা মনে পড়লে শিউরে ওঠে অনেকে। ওমশ্রী ছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁরই আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন করসেবকরা। আশ্রমে ঢুকে অবাধ গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। নির্যাতনও চলেছিল। গুলিতে শহিদ হয়েছিল একাধিক করসেবক।
ওমশ্রী ভারতী বলেন, “১৯৯০ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশ করসেবক গ্রেফতার শুরু করে। সেইদিন ওমশ্রী ভারতীর আশ্রমে রাজস্থান ও হরিয়ানার কারসেবকরা অবস্থান করছিলেন। কড়া পুলিশি ব্যবস্থা ছিল। পুলিশ আশ্রমের সামনে অবস্থান নেয়। করসেবকরা আশ্রম থেকে বের না হওয়ায় পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে পাঁচ করসেবক শহিদ হন। অনেকেই আশ্রমের ভিতর থাকা কুয়োতে ঝাঁপ দেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শহিদ হয়।”
ওমশ্রী ভারতী বলেন, “গুলি চলার সেই ঘটনাকে জালিয়ানওয়ালাবাগের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আজও আমার আশ্রমে গুলির চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয় ২২ ইঞ্চির পুরু পাঁচিল। সেই দাগ রয়ে গিয়েছে।”
ওমশ্রী ভারতী এখনও করসেবকদের স্মরণে একটি প্লেট রেখে দিয়েছেন নিজের কাছে যত্ন করে। ঘটনার পর হেমবতী নন্দন বহুগুণা এবং লালকৃষ্ণ আদবানি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে আদবানীর উপর এখনও ক্ষুবন্ধ ওমশ্রী ভারতী। তাঁর প্রশ্ন, “অযোধ্যায় পাঠানোর আগে কেন করসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি? অনেক করসেবক ছিলেন যাঁদের পালানোর পথ ছিল না। এমনকী তাঁদের টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২ নভেম্বরকে ইতিহাসে বীরত্ব দিবস হিসেবে পালন করা উচিত।”
রাম মন্দির নির্মাণের আন্দোলনের ইতিহাসে ওমশ্রী ভারতীর আশ্রম একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। এই আশ্রমে গুলি চালানোর ঘটনা আন্দোলনের ভয়াবহতাকে তুলে ধরে। এই ঘটনার স্মৃতি আজও হিন্দুদের মনে গেঁথে আছে।