বিশেষ: বাবরি মসজিদের নীচে রাম মন্দির খোঁজার মূলে রয়েছেন এক মুসলিম প্রত্নতত্ত্ববিদ, জেনেনিন তিনি কে ?

দীর্ঘ বছর ধরে আইনি লড়াই-টানাপড়েন শেষে, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়। এই রায়ের পেছনে রয়েছে এক মুসলিম প্রত্নতত্ত্ববিদের বিরাট অবদান। তিনি হলেন করিঙ্গামান্নু কুঝিল মুহাম্মদ, যিনি ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৭৬-৭৭ সালে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একদল ছাত্র অযোধ্যায় খনন কাজ চালায়। এই দলে ছিলেন কে কে মুহাম্মদও। খননকালে তারা বাবরি মসজিদের স্থাপত্যের নিচে একটি প্রাচীন কাঠামো খুঁজে পান। এই কাঠামোর স্তম্ভগুলি কালো বেসাল্ট পাথর দিয়ে তৈরি ছিল এবং তাদের নিচে একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর মন্দিরগুলিতে দেখা পূর্ণ কলশগুলি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। এই প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলির ভিত্তিতে, কে কে মুহাম্মদ এবং তার সহকর্মীরা উপসংহারে পৌঁছান যে বাবরি মসজিদ স্থাপনের আগেই সেখানে একটি হিন্দু মন্দির ছিল।

এই খনন কাজের ফলাফলগুলি ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের মূল প্রণেতা ছিলেন কে কে মুহাম্মদ। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় যে, বাবরি মসজিদ স্থাপনের আগেই সেখানে একটি হিন্দু মন্দির ছিল এবং এই মন্দিরটি ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

কে কে মুহাম্মদের এই প্রতিবেদনটি বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেক মুসলিম এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন যে, প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং এটি হিন্দুত্বের প্রচার করছে।

তবে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা কে কে মুহাম্মদের প্রতিবেদনটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা রায় দেন যে, বাবরি মসজিদ স্থাপনের আগেই সেখানে একটি হিন্দু মন্দির ছিল। এই রায়ের ফলে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পথ সুগম হয়।

কে কে মুহাম্মদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং পরিশ্রম অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি একজন মুসলিম হলেও, তিনি নিরপেক্ষভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলি বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং এই প্রমাণগুলির ভিত্তিতে একটি সত্যিকারের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন। তার এই সাহসী পদক্ষেপ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।