বিশেষ: মাটিতে গামছা পেতে হয় মুড়ি খাওয়া, নদীপাড়ে জমজমাট মুড়ির মেলা, জেনেনিন কোথায়?

রাঢ়বাংলার মানুষের মুড়ির প্রতি ভালোবাসা চিরকালের। এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বরের চরে বসে আয়োজিত মুড়ির মেলার মাধ্যমে। প্রতি বছর মাঘ মাসের ৪ তারিখে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলার আয়োজন
মেলার আয়োজনে অংশ নেন আশপাশের প্রায় ৫০-৬০টি গ্রামের মানুষ। তারা বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে মুড়ি নিয়ে আসেন। এছাড়াও, মেলায় বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার, যেমন চপ, বেগুনি, শিঙাড়া, চানাচুর, আলুর দম, ঘুগনি, নারকেল নাড়ু ইত্যাদি বিক্রি হয়।
মেলার বিশেষত্ব
মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো মুড়ি মাখার রীতি। নদীর চরে বালির উপর গামছা পেতে মুড়ি মাখা হয়। মুড়ির সাথে থাকে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার। মুড়ি মাখার জন্য নদীর বালি থেকে জল বের করে আনা হয়।
মেলার ইতিহাস
মেলার ইতিহাস বেশ পুরনো। স্থানীয়দের মতে, একসময় কেঞ্জাকুড়ার দ্বারকেশ্বরের চরে সঞ্জীবনী মাতার আশ্রম ছিল। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির সময় সেখানে হরিনাম সংকীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়। এই আশ্রমটি একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল। সন্ধ্যার পর জঙ্গলের পথ দিয়ে বাড়ি ফিরতে ভয় পেতেন ভক্তরা। তাই, তারা রাত জেগে আশ্রমে বসে হরিনাম শুনতেন। সঙ্গে করে আনা মুড়ি-বাতাসা তারা নদীর চরে বসে খেতেন। সেই মুড়ি খাওয়ার রেওয়াজই ধীরে ধীরে মেলার রূপ নিয়েছে।
মেলার গুরুত্ব
মুড়ির মেলা শুধুমাত্র একটি খাবারের মেলা নয়। এটি রাঢ়বাংলার মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। এই মেলায় আগত মানুষ একসাথে বসে মুড়ি খেয়ে আনন্দ-উল্লাস করেন। এটি এক ধরনের সামাজিক মেলাও বটে।