অসহ্য পেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, শৌচাগারে সন্তান প্রসব করল কিশোরী

মধ্য প্রদেশের ভিন্ড জেলায় এক ১৭ বছরের নাবালিকাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তার মা। মেয়েটির পেটের যন্ত্রণা ছিল। কিন্তু, ভর্তি হওয়ার সময় মেয়েটি গর্ভবতী ছিল বলে হাসপাতালের কাউকে জানাননি তারা। সন্ধ্যায় হাসপাতালের শৌচাগারে সন্তান প্রসব করে সেই নাবালিকা। সদ্যোজাতকে ভাঙা বালতিতে ফেলে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করে মা-মেয়ে। কিন্তু, হাসপাতালের স্টাফরা তাদের ধরে ফেলেন।
জানা গেছে, ভিন্ড জেলার রৌন এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা। সে দশম শ্রেণিতে পড়ে। তার মায়ের নাম সাথী। বৃহস্পতিবার সকালে পেটের যন্ত্রণায় কাতর মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সাথী। মেয়েটিকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় তাকে শৌচাগারে নিয়ে যান সাথী। সেখানেই প্রসব হয় নাবালিকার। সদ্যোজাতকে শৌচাগারের ভাঙা বালতিতে ফেলে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করে মা-মেয়ে।
কিন্তু, হাসপাতালের স্টাফরা তাদের সন্দেহ করেন। তাদের খোঁজে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের শৌচাগারে যেতেই সদ্যোজাতকে একটি ভাঙা বালতিতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনে দৌড়ে যান স্টাফরা। কনকনে ঠান্ডায় শিশুটিকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে স্টাফরা বুঝতে পারেন যে শিশুটিকে ওই নাবালিকা জন্ম দিয়েছে।
হাসপাতালের সার্জেন ডা. অনীল গোয়েল বলেন, “ওই নাবালিকা ও তার মা হাসপাতালে এসেছিল। পেটের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল মেয়েটি। কিন্তু, সে যে গর্ভবতী ছিল, তা আমাদের জানানো হয়নি। শৌচাগারের মধ্যে শিশুর জন্ম দিয়ে সদ্যোজাতকে ভাঙা বালতিতে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, হাসপাতাল চত্বর থেকেই মা-মেয়েকে পাকড়াও করা হয়। শিশুটিকে নাবালিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনা জানানো হয়েছে স্থানীয় পুলিশকে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের ICU-তে রাখা হয়েছে। তবে কিশোরী এবং তার মা সদ্যোজাতকে নিতে অস্বীকার করছে। তাদের হাসপাতালের মধ্যেই পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তারা বলেছেন, “এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।”