ডাক্তারের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত রোগিণী, ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল আদালত

একটি অযৌক্তিক অভিযোগের জেরে এবার একজন রোগিণীকেই দোষী সাব্যস্ত করলো কেরালার পালাক্কড়ের ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। ওই রোগিণীকে চিকিৎসকের কাছে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের অগস্টে। ওই রোগিণী মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর অবসাদ-সহ একাধিক মনোবিকারের সমস্যা ছিল। রোগিণীর অনুরোধে ওই চিকিৎসক একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট লিখে দেন। সেই সার্টিফিকেট রোগিণী তাঁর স্বামীকে দেন। পরে সেই চিকিৎসা-নথিটিই বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় আদালতে পেশ করে সুবিধা পেয়ে যান ওই মহিলার স্বামী।
এতে চটে গিয়ে রোগিণী ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পালাক্কড় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই চিকিৎসক তাঁর গোপনীয়তা ভঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।
অন্যদিকে, ওই চিকিৎসকের বক্তব্য ছিল, রোগিণীর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে তিনি অন্যায় কিছুই করেননি। কারণ, তাঁর স্বামীর কী মতলব এবং তাঁর সঙ্গে স্ত্রীয়ের বর্তমান সম্পর্ক ঠিক কেমন, তা জানা সম্ভব ছিল না।
দু’ পক্ষের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়, রোগিণীর অভিযোগ ছিল অযৌক্তিক। তিনি চিকিৎসকের সম্মানহানি করেছেন। তাই তাঁকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এই রায়ে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, “ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুলিশি হেনস্থা ও জনগণের হাতে নিগৃহীত হওয়া এখন প্রতিদিনের ঘটনা।”
সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, “মানসিক রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনেই তাঁর আইনি অভিভাবককে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন আছে। এবং সেটা মেডিক্যাল এথিক্সেও আইনসিদ্ধ। এর মধ্যে দিয়ে ওই চিকিৎসক কোনও অন্যায় করেননি। তাই এই মামলার মতো অযৌক্তিক অভিযোগের বিরুদ্ধে ডাক্তারেরও অভিযোগ জানানো এবং বিচার চাওয়ায় জায়গা থাকা দরকার। এই ক্ষেত্রে তাই একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।”
ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কৌশিক চাকী বলেন, “যুগান্তকারী রায়। যে কোনও দুর্ভাগ্যজনক পরিণাম অথবা ঘটনার দায়কে একতরফা ভাবে যে ডাক্তারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, তা ফের প্রমাণিত হলো আদালতে।”