শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির প্রতিবাদে স্বর্ণপদক ফেরত দিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্র দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ করে স্বর্ণপদক ফেরত দিয়েছেন।
লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ নূরুল হুদা ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি সিজিপিএ-৩.৬৫ এবং ৩.৬১ পেয়ে এলএলবি এবং এলএলএম পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই অর্জনের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক এবং প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ করেন।
তবে, শিক্ষক নিয়োগের সময় তিনি সর্বোচ্চ নম্বরধারী হওয়ার পরও নিয়োগ পাননি। তার চেয়ে কম সিজিপিএ পেয়ে অন্যরা শিক্ষক হয়েছেন। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নূরুল হুদা বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের মতন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়ম দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রত্যাখ্যান করছি।”
নূরুল হুদার অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, “নূরুল হুদার স্বর্ণপদক এবং সনদপত্র আমরা পেয়েছি। আমরা উপাচার্যের কাছে এটি জমা দিয়েছি। উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মতামত জানাবেন।”
নূরুল হুদার পদক ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সরব প্রতিবাদ। এ ঘটনা সরকারের দুর্নীতি দমন তৎপরতার উপরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।