‘ছায়াপথের বাইরে’ থেকে রহস্যময় সংকেত পেল নাসা, যা ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) বিজ্ঞানীরা পৃথিবী যে ছায়াপথের অংশ, সেই মিল্কিওয়ের বাইরে থেকে নতুন এক ‘অপ্রত্যাশিত ও ব্যাখ্যাতীত’ সংকেত খুঁজে পেয়েছেন।
এ রহস্যময় সংকেত ধরা পড়েছে নাসার ‘ফেরমি গামা-রে’ স্পেস টেলিস্কোপে। সে সময় টেলিস্কোপটি অন্য একটি অনুসন্ধান চালাচ্ছিল।
সংকেতটি অন্য কোনো গামা-রশ্মি সংকেতের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা একই দিকে মুখোমুখি ও প্রায় একই মাত্রার। তবে, ওই অন্য গামা-রশ্মির বিশ্লেষণও খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
গবেষকরা বলছেন, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে তৈরি ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ বা ‘সিএমবি’ নামের বিকিরণ সংশ্লিষ্ট একটি গামা রশ্মি নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে তারা এ নতুন বিষয়টি খুঁজে পেয়েছেন।
কয়েক দশক আগে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছিল, সিএমবি’র গঠন প্রক্রিয়া এমন যে, এর সংকেত লিও নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে বেশি সক্রিয় থাকে। আর বিপরীত দিকে গেলে এর বেতার তরঙ্গের মাত্রা কমে যায়।
বিজ্ঞানীরা এ গঠন প্রক্রিয়া আরো ভালোভাবে বুঝতে চাইছেন, কারণ এ সংকেত সরাতে পারলে সিএমবি’র বিভিন্ন বৈচিত্র্য আরো ভালোভাবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছেন, এই একই ‘ডাইপোল’ আকৃতির গঠন প্রক্রিয়া গামা রশ্মির বেলাতেও প্রযোজ্য কি না। আর এর জন্য তারা নাসার এমন একটি স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করেছেন, যা সারাদিনে গোটা আকাশ স্ক্যান করতে সক্ষম।
গবেষকরা এর গঠন প্রক্রিয়ায় ডাইপোল আকৃতি খুঁজে পেলেও, তা পুরোপুরি ভিন্ন জায়গা ছিল। এর অবস্থান ছিল দক্ষিণের আকাশে, যেখান থেকে সিএমবির দূরত্ব অনেক বেশি।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, ‘আল্ট্রাহাই-এনার্জি কসমিক রে’ অথবা ‘ইউএইচইসিআর’ নামে পরিচিত রশ্মিগুলো যে দিক থেকে এসেছে, নতুন আবিষ্কৃত ডাইপোলটিও ঠিক একই দিক থেকে এসেছে। এমনকি এদের মাত্রাও প্রায় একই।
বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি ঘটনাই সম্ভবত একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আর একই ধরনের গঠন প্রক্রিয়া থাকার পাশাপাশি এগুলোর উৎসও সম্ভবত একই।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, তারা হয় এর উৎসটি খুঁজে বের করবেন, বা এ দুটি ঘটনার অস্তিত্ব নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ খুঁজে পাবেন।
এ অনুসন্ধানটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে ‘প্রোবিং দ্য ডাইপোল অফ দ্য ডিফিউজ গামা-রে ব্যাকগ্রাউন্ড’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে, যা প্রকাশ পেয়েছে বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিকাল জার্নাল লেটার্স’-এ।