OMG! পাকিস্তানে ১২ টি ডিমের দাম ৪০০ টাকা, আর্থিক সংকটে ভুগছে দেশের মানুষ

পাকিস্তানে পণ্যের লাগাম টেনে ধরতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশটির পাঞ্জাবের প্রাদেশিক রাজধানী লাহোরে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ পাকিস্তানি টাকাতে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ১৭৫ টাকা কেজির বিপরীতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।
রোববার স্থানীয় বাজার সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ।
স্থানীয় প্রশাসন সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এই ব্যর্থতার কারণে সেখানে মাত্র ১২টি ডিমের দাম ৪০০ রূপিতে স্পর্শ করেছে।
এআরওয়াই নিউজ আরো জানিয়েছে, লাহোরে এক কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬১৫ টাকাতে।
গতমাসে দেশটির ইকোনোমিক কো-অর্ডিনেশন কমিটি জাতীয় মনিটরিং কমিটিকে পণ্যের মূল্য নিয়ে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
গত মাসেই ইকোনমিক কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে পাকিস্তানের ন্যাশনাস প্রাইজ মনিটরিং কমিটিকে মূল্যবৃদ্ধিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে সমস্ত পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া এবং কোথাও যেন পণ্য মজুত করে রেখে কৃত্রিম সঙ্কট না তৈরি হয়, তা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এআরওয়াই নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে গত বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের ঋণের বোঝা বেড়ে ৬৩ হাজার ৩৯৯ ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে।
পিডিএম এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পাকিস্তানের মোট ঋণ ১২ দশমিক ৪৩০ ট্রিলিয়ন টাকা বেড়েছে। সামগ্রিক ঋণের বোঝা বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৩৯০ টাকা, এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ৪০ দশমিক ৯৫৬ ট্রিলিয়ন টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ২২ দশমিক ৪৩৪ ট্রিলিয়ন টাকা।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অভিজাত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি তার সমপর্যায়ের দেশগুলোর থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
পাকিস্তানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর নাজি বেনহাসাইন বলেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মডেল ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে। দারিদ্র্য আবার বাড়তে শুরু করেছে। অতীতে দারিদ্র্যের উল্লেখযোগ্য হ্রাস আবার অবনতির দিকে যাচ্ছে। নীতি পরিবর্তনের পক্ষের মত জোরালো হচ্ছে। স্পষ্টত পাকিস্তানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই নয়।