সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না দীর্ঘদিন, অবশেষে গ্রেফতার মাওবাদী নেতা সব্যসাচী গোস্বামী

দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সিপিআই (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা বেঙ্গল ইনচার্জ সব্যসাচী গোস্বামীকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
উত্তর ২৪ পরগণার ঘোলা থানা এলাকার সোদপুর রোডের বাসিন্দা সব্যসাচী গোস্বামী ওরফে কিশোর ওরফে বিজয়। তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার গ্রামগুলিতে মাওবাদী সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে সব্যসাচী গোস্বামীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি, মাওবাদী সংগঠনের বেশ কিছু নথিপত্র এবং চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।”
সব্যসাচী গোস্বামী ২০০০ সালে সিপিআই (মাওবাদী) কলকাতা শহর কমিটির সম্পাদক ছিলেন। ২০০৪ সালে রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। ছাত্র আন্দোলনের সময় নকশাল নেতা সন্তোষ রানার দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। পরবর্তী জমি আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন। নোনাডাঙ্গা উচ্ছেদ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন এই মাও নেতা।
এর আগেও পাঁচবার গ্রেফতার হয়েছিলেন সব্যসাচী গোস্বামী। ২০২১ সালে আসামের গোলাঘাট জেলা থেকে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে যাদবপুর থেকেও গ্রেফতার হয়েছিলেন তিন। ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি দক্ষিণ বাঁকুড়ার বারিকূল থানার গোসদা গ্রামে অনলাইন গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে তিনি ছিলেন বলে জানতে পারে পুলিশ। তবে চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যান। ২০২৩ সালের মার্চ মাসেও ঝাড়গ্রামে ধরমপুর থেকেও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি।
সব্যসাচী গোস্বামীর গ্রেফতারে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি বলেন, “সব্যসাচী গোস্বামী একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী মাওবাদী নেতা। তাঁর গ্রেফতারে মাওবাদী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে বলে আশা করি।”