রাম মন্দির উদ্বোধনে অসন্তুষ্ট নির্মোহী আখড়া, রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার নিয়ম-পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি

অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নানা বিতর্ক সামনে আসছে। চারজন শঙ্করাচার্যের পর এবার নির্মোহী আখড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অসন্তুষ্ট। নির্মোহী আখড়ার দাবি, রামলালার পুজো-অর্চনার নিয়মবিধিতে তাদের আপত্তি রয়েছে। তারা চান, যুগ যুগ ধরে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই রামলালার পুজো হোক।

নির্মোহী আখড়ার মহন্ত দেবেন্দ্র দাস বলেন, “২২ জানুয়ারি রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসব নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু, ভগবান রামের পুজার্চনার পদ্ধতি নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। বিশুদ্ধ রমানন্দী পরম্পরা অনুযায়ী রামের পুজো হচ্ছে না। অযোধ্যার রাম মন্দিরের পুজার্চনা হবে নানা পদ্ধতির মিলমিশে। যা বিধি অনুযায়ী সম্মত নয়। ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রমানন্দী পদ্ধতিতেই রামলালার পুজো হয়। কিন্তু, সেই চিরাচরিত পদ্ধতিতে বদল আনা হচ্ছে। যা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। রমানন্দী পরম্পরায় তিলক এবং মন্দির তৈরিতে ব্যবহৃত চিহ্নগুলি আলাদা আলাদা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না।”

নির্মোহী আখড়ার দাবি, যুগ যুগ ধরে রামলালার পুজো করার যে নিয়ম প্রচলিত রয়েছে সেটাই যেন আগামীদিনেও পালন করা হয়। তবে ট্রাস্টের সঙ্গে তাঁদের মতের মিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মহন্ত দেবেন্দ্র দাস।

এদিকে, চারজন শঙ্করাচার্যও রাম মন্দির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ না করে ভগবান রামের মূর্তি স্থাপন সনাতন হিন্দু ধর্মের রীতি বিরোধী। অসমাপ্ত মন্দিরে ভগবান রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা মেনে নেওয়া যায় না।

শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী বলেন, “মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ না করে ভগবান রামের মূর্তি স্থাপন সনাতন হিন্দু ধর্মের রীতি বিরোধী। অসমাপ্ত মন্দিরে ভগবান রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা মেনে নেওয়া যায় না। তাড়াহুড়ো করার কোনও দরকার ছিল না। মন্দিরের কাজ সম্পন্ন করেই রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা যেত। অসমাপ্ত মন্দির উদ্বোধন ভুল পদক্ষেপ। কিন্তু, ধর্মশাস্ত্রের বিরুদ্ধেও যেতে পারব না। আমরা মোদী বিরোধী নই।”