লোহিত সাগরে হুতিদের ‘বৃহত্তম হামলা’, নড়ে চড়ে বসলো আমেরিকা

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার পাল্টা হামলা হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লোহিত সাগরে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা। এরই অংশ হিসেবে এবার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) হুতিদের ছোড়া ১৮টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপতিত করে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আনুমানিক ৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হুতিদের হামলার আওতায় ছিল।
মঙ্গলবারের ওই ১৮টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ১৮ মাইল প্রশস্ত বাব এল-মান্দেব প্রণালী ও এর আশপাশে যুদ্ধজাহাজের একটি বহরকে লক্ষ্যবস্তু করে ছোড়া হয়। বাব এল-মান্দেবের ওই জায়গাটি লোহিত সাগরে হুতিনিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সবচেয়ে কাছের এলাকা।
গত ডিসেম্বরে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পরিকল্পনায় ইরান ‘ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত’ বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জন্য ইরানের গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মঙ্গলবারের হামলার পর ব্রিটিশদের ভাষ্য, ড্রোনগুলো ইরানের নকশা করা ছিল।
তবে লোহিত সাগরে জাহাজে হুতিদের হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইরান। মঙ্গলবারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুলি করে ভূপাতিত করা হলেও এই ভয়াবহ হামলা পশ্চিমা রাজনীতিতে যে আঁচড় কেটেছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বুধবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বাহরাইন সফরকালে বলেন, ‘যদি এমনটা গতকালের (মঙ্গলবারের হামলা) মতো চলতে থাকে, তাহলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
অন্যদিকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস বলেন, ‘এই স্থান (লোহিত সাগরে হামলা) নজরে রাখুন’। সতর্কতা উচ্চারণ করে ব্রিটিশ এই মন্ত্রী বলেছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যেতে পারে না।
সূত্র: বিবিসি