ঠিক যেন সিনেমা! সরকারি চাকরি পেয়েই স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে প্রাক্তনের কাছে স্ত্রী

বিহারের মজফ্ফরপুরের সাহেবগঞ্জে এক শিক্ষিকার চাকরি পেয়ে স্ত্রীর পুরনো প্রেমে ফিরে যাওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাওয়ার পরই রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেছেন শিক্ষিকা। এখন আর তিনি এসএসবি জওয়ান স্বামীর দিকে ফিরেও তাকান না। তাঁর সব অবদান রাতারাতি ভুলে মেরে দিয়েছেন। এখন তাঁর শয়নে স্বপনে শুধুই পুরনো প্রেমিক। স্বামীকে ডিভোর্স দিতে চলেছেন মহিলা।
শিক্ষিকা সীতামারহি জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী পেশায় একজন এসএসবি জওয়ান। স্বামীর চেষ্টায় শেষমেশ বিপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে শিক্ষিকার চাকরিও পেলেন স্ত্রী। পোস্টিং হল মজফ্ফরপুরের সাহেবগঞ্জের একটি স্কুলে। পরিবারে তখন খুশির হাওয়া।
কিন্তু হঠাৎ সেই খুশির হাওয়া বদলে এক অন্য রকম পরিস্থিতি তৈরি হল। হঠাৎ পুরনো প্রেমিকের জন্য হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে উঠল শিক্ষিকার। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাওয়ার পরই রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেছেন শিক্ষিকা। এখন আর তিনি এসএসবি জওয়ান স্বামীর দিকে ফিরেও তাকান না। তাঁর সব অবদান রাতারাতি ভুলে মেরে দিয়েছেন। এখন তাঁর শয়নে স্বপনে শুধুই পুরনো প্রেমিক। স্বামীকে ডিভোর্স দিতে চলেছেন মহিলা।
শিক্ষিকা আট দিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। এদিকে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর মা অপহরণের অভিযোগে FIR দায়ের করেন। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্কুলের শিক্ষিকা আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কী ভাবে হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন সেই বিষয় ভেবে কেউ কূল কিনারা পাচ্ছিলেন না। মঙ্গলবার হঠাৎই আবার স্কুলে হাজির হন মহিলা।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিক্ষিকা জানান, তিনি তাঁর ‘বন্ধুর’ বাড়িতে গিয়েছিলেন। বিনা নোটিসে স্কুলে অনুপস্থিতির কারণে মহিলার মা তাঁর খুড়তুতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে FIR দায়ের করেছিলেন।
আদালতে শিক্ষিকা বলেন, একসময় বিনা সম্মতিতেই তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর সেকারণে আদালতেই স্বামীর থেকে ডিভোর্স চান মহিলা। স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন মহিলা। বর্তমানে তিনি মামার সঙ্গে থাকছেন বলে জানান।
অন্যদিকে মহিলার স্বামীর অভিযোগ অবশ্য একেবারে উল্টো। তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রীকে পড়াশোনা করাতে কোনও খামতি রাখেননি তিনি। তবে শিক্ষিকা হওয়ার পরই ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকেন স্ত্রী। দূরত্ব তৈরি করেন তাঁর থেকে। স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, শিক্ষিকা হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর আচরণ স্বাভাবিকই ছিল। তিনি একসময় বারাণসীতে পোস্টিং ছিলেন। স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে বেনারসেই থাকেতন। সেখান থেকেই সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। কিছুদিন আগে বিপিএসসি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষিকার চাকরি পেয়েছেন। অভিযোগ, শিক্ষিকা হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে সম্প্রতি ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, সরকারি চাকরির প্রতি লোভই শিক্ষিকার এই পরিবর্তনের কারণ। আবার অনেকে বলছেন, পুরনো প্রেমিকের প্রতি শিক্ষিকার ভালোবাসা আবার জেগে উঠেছে।