স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা, স্ত্রী খোরপোশ দাবি করলেন মাসে ২.৫ লাখ

সূচনা শেঠের সন্তান-হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী বেঙ্কট রামন পিআর-এর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। তবে, এই অভিযোগের সমর্থনে সূচনা বেশ কিছু নথি আদালতে জমা দিয়েছেন।

সূচনার দাবি, বেঙ্কট তাকে ও তার সন্তানকে মারধর করেছেন। এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ছবি, মেডিক্যাল রেকর্ডস-সহ নানা নথি আদালতে জমা দেন। এই নথিগুলিতে বেঙ্কটের বিরুদ্ধে সূচনা ও তার সন্তানের প্রতি সহিংস আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

তবে, বেঙ্কট এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সূচনা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে কখনও মারধর করেননি।

এই মামলার শেষ শুনানি হয়েছিল গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। আগামী ২৯ জানুয়ারি এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

সূচনা ও বেঙ্কটের মধ্যে ঝগড়ার কারণ হিসেবে ছেলেকে নিয়ে সূচনার অধিকারের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। বেঙ্কট অভিযোগ করেন, সূচনা ছেলেকে বাবার কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে চান। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য আদালত বেঙ্কট ও সূচনার কাছ থেকে বিস্তারিত বয়ান নেবে। এছাড়াও, অন্যান্য সাক্ষীদের বয়ানও নেওয়া হবে।

আদালতের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

সূচনা ও বেঙ্কটের মধ্যে ঝগড়ার কারণ

সূচনা ও বেঙ্কটের মধ্যে ঝগড়ার প্রধান কারণ হিসেবে ছেলেকে নিয়ে সূচনার অধিকারের প্রশ্নটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেঙ্কট অভিযোগ করেন, সূচনা ছেলেকে বাবার কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে চান। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।

সূচনাও এই অভিযোগের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেঙ্কট ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তিনি ছেলেকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে চান। কিন্তু, তিনি চান ছেলের স্বাধীনতা থাকুক।

এই বিষয়ে সূচনা ও বেঙ্কটের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।

গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগের প্রভাব

সূচনা ও বেঙ্কটের মধ্যে ঝগড়ার কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। এতে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

এছাড়াও, এই ঝগড়ার কারণে তাদের ছেলের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ছেলেটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

গার্হস্থ্য হিংসা একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। এর প্রভাব পরিবারের সকল সদস্যের উপর পড়ে। তাই, এই সমস্যার সমাধানের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।