নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল জয়, নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক বাংলাদেশে

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরেছে আওয়ামী লীগ। ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয়লাভ করেছে দলটি। এর মধ্যে ২১টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ২ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।
বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম ছিল। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোট পড়ার হার মাত্র ৪১.৮০ শতাংশ। তবে, আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্রকেও মনোনয়ন দেয়। এই স্বতন্ত্রদের কাছে অনেকগুলি আসনেই পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুসারে, মাত্র ৩২টি আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে জয়ীর ভোটের ব্যবধান ১০ হাজারের কম। ১০৪ টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে থাকা সবাই জামানত হারিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ভোটে জিতেছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে শেখ হাসিনা। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২,৪৯,৯৬৫। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির এম নিজামউদ্দিন লস্কর, পেয়েছেন মাত্র ৪৬৯ ভোট। ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৬ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও, গোপালগঞ্জ-২ আসনে শেখ ফজলুল করিম ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে, নাটোর-১ আসনে আবুল কালাম ২ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে এবং ঢাকা-৫ আসনে মশিউর রহমান মোল্লা ২৯৭টি ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করেন।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোট পড়ার হার মাত্র ৪১.৮০ শতাংশ। বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এইসঙ্গেই অনিয়মের অভিযোগে আওয়ামী লীগের একজনের প্রার্থীপদ বাতিল করা হয়। সেখানের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনসহ বেশ কিছু সংগঠন।
নির্বাচনের ফলাফলের ফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। তবে, নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের কারণে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।