‘এই টাকা আমি কুড়িয়ে পেয়েছি’, লোভে পড়ে সোনার গহনা হারালেন বৃদ্ধা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার দক্ষিণ বারাসতে অভিনব কায়দায় প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতারিত মহিলার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মূল্যবান সোনার গয়না।

জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি দক্ষিণ বারাসতে তাঁর নাতির হোস্টেলে দেখা করতে যাওয়ার সময় বারুইপুরের দক্ষিণ গড়িয়ার বাসিন্দা অর্চনা চণ্ডীকে একটি অটোতে তুলে নেয় দুই যুবক। অটোতে চড়ার পর এক যুবক অর্চনা চণ্ডীকে একটি টাকার বান্ডিল দেখায় এবং বলে, “এই টাকা আমি কুড়িয়ে পেয়েছি। আমি গাড়ি ভাড়া দিতে পারব না। তুমি যদি এগুলো রাখো, তাহলে খুব ভালো হয়।”

অর্চনা চণ্ডী প্রথমে টাকার বান্ডিলটি নেন না। কিন্তু যুবক তাকে বোঝায় যে, টাকাগুলো আসলে কুড়িয়ে পাওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর কোনো মালিক নেই। তাই অর্চনা চণ্ডী টাকার বান্ডিলটি নিয়ে নেন। অর্চনা চণ্ডী তখন যুবকের কথায় রাজি হয়ে যান।

যুবক অর্চনা চণ্ডীকে তার কানের পাশা দু’টো খুলে দেওয়ার জন্য বলে। অর্চনা চণ্ডী প্রথমে দ্বিধা করেন। কিন্তু যুবকের কথায় রাজি হয়ে তিনি তার কানের পাশা দু’টো খুলে যুবককে দেন। অটো থেকে নেমে যাওয়ার পর অর্চনা চণ্ডী টাকার বান্ডিলটি খুলে দেখেন যে, তা আসলে কাগজের বান্ডিল। আর তার ওপর একটা ১০ টাকা লাগানো আছে। তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

অর্চনা চণ্ডী ঘটনাটি জয়নগর থানায় জানান। পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে, প্রতারিত মহিলাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুই যুবক।

পুলিশের অভিযানে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন সাইদুল মণ্ডল ও আলি হোসেন মোল্লা। ধৃতদের কাছ থেকে প্রতারিত মহিলার সোনার কানের পাশা এবং আরও একজোড়া সোনার রিং উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, এই দুই যুবক আগেও একাধিকবার এই ধরনের প্রতারণা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।