নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক, উপস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও

তৃণমূলের নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে বুধবার রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নেতাদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করলেন দলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে বলেছিলেন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তিনি পুরোপুরি নিজের কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারেই মনোনিবেশ করতে চান। দল তাঁকে যদি কোনও সভা করতে বলে, তাহলে করবেন। তবে ওই দিনে নিজের কেন্দ্রে পূর্ব নির্ধারিত কোনও কর্মসূচি থাকলে দলের দেওয়া সেই সভা করতে পারবেন না। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই, তোলপাড় পড়ে যায় গোটা রাজ্য রাজনীতিতে। বিভিন্নমহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে, তবে কী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোথাও মত পার্থক্য তৈরি হচ্ছে? আর সেই কারণেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রধান ‘সেনাপতি’র ভূমিকা থেকে সরে থাকতে চাইছেন তিনি?
এই ইস্যুতে দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীও বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করেন। এরই মাঝে ডায়মন্ডহারবারে এক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বয়স হলে কর্মক্ষমতা কমবে এটা ধ্রুব সত্য, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই, আমি ৩৬ বছর বয়সে হেঁটেছি, নবজোয়ার কর্মসূচি করেছি, ৭০ বছর হলে পারব? বয়স হলে কর্মক্ষমতা কমে এতে অসুবিধার কী আছে? আজকে যেটা করতে পারছি, ৬০ বছর হলে পারব?’ অভিষেক এই মন্তব্য করায় নতুন করে জল্পনা উষ্কে ওঠে।
আবার তারপরেই গঙ্গাসাগরে গিয়ে রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যসচবি ও বর্তমান মুখ্যসচিবকে পাশে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যাঁরা যোগ্যলোক তাঁদের ৬০ বছরে আমরা বিদায় দিই না, আমরা তাঁদের কাজকর্ম অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো কাজে লাগাই, এটা বিরল ঘটনা যে তিন জন মুখ্য সচিব, দু’জন প্রাক্তন এবং বর্তমান মুখ্যসচিবকে আমরা এক জায়গায় আনতে পেরেছি। এটা সরকারের একটা বড় কাজ।’ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে ফের প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি সত্যিই দলে ‘নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব’ রয়েছে?
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক বৈঠক থেকে দলের নবীন-প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে কোনও বার্তা আসে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠকের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলের সাংগঠনিক বৈঠক ভালো হয়েছে। আমরা আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
বৈঠকে দলের নবীন-প্রবীণ নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, আগামী লোকসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।