বাংলাদেশের ভোটে তারকাদের কার কী অবস্থা, দেখেনিন একঝলকে

সংসদ নির্বাচনের মাঠে দেশের বিনোদন জগতের মানুষদের যুক্ত হওয়া নতুন ঘটনা নয়। তবে এবারের ভোটে যারা এসেছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ জনপ্রিয়তায় সাড়া তোলা শিল্পী, কেউ বা আবার নানাকাণ্ডে আলোচিত। ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে তারকাদের কেউ জয়ের ধারা ধরে রেখেছেন, কেউ বিদায় নিয়েছেন। আবার শুরুতেই বাজিমাত করে জয়ের হাসি হেসেছেন এমনও আছে।
নীলফামারী-২ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। ২০০১ সাল থেকে এই অভিনেতা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি। এবারে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৬৮৪ ভোট।
বাংলাদেশ-ভারত মিলিয়ে রূপালি জগতের পর্দায় আড়াই দশক ধরে কাটিয়ে দেওয়া চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ কয়েক বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এবারে নৌকার মনোনয়নে ঢাকা-১০ আসন থেকে ভোটে দাঁড়ান ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নায়ক। প্রথমেই বাজিমাত করেছেন তিনি। দু সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রচার কাজে নিজের আসনের প্রায় সব স্তরের মানুষের কাছে গিয়েছেন ফেরদৌস। এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। ৭ জানুয়ারির ভোটের সকালেই ফেরদৌস বলেছিলেন, জয়ের ব্যাপারে তিনি সর্বোচ্চ আশাবাদী। তার ধারণার অন্যথা ঘটেনি। ভোটে ফেরদৌস পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৮৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজী মো.শাহজাহান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৭ ভোট।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন তিনবারের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। ঘোষিত ফল অনুযায়ী মোট ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রে মমতাজ নৌকা প্রতীকে মমতাজ পেয়েছেন ৮২ হাজার ১৩৮ ভোট। মমতাজের চেঙয়ে ৬,১৭১ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু। জয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩০৯ ভোট। লোকগানের এই শিল্পী ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত হন। আর ২০১৪ সাল থেকে মানিকগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মমতাজ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’ মনোনীত ডাব প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ভোটের দিন নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। আলোচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই ঘোষণা দিয়েছেন তার ফেইসবুকে। হিরো আলম ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং এ বছরের শুরুতে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেন। এছাড়া তিনি ঢাকা-১৭ আসনের উপ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিবারই এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতার কারণ দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। প্রথম দুইবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। আর ঢাকার উপ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ছাড়পত্র পেয়ে যান। কিন্তু জয় মেলেনি কোনোবারই। এবারেও প্রথমে দলীয় মনোনয়ন মিললেও হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। পরে আপিলে তার প্রার্থিতা ফিরে নির্বাচন করেন।
জাল ভোটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন পাবনা-২ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রার্থী ডলি সায়ন্তনী। নব্বইয়ের দশকের এই কণ্ঠশিল্পী ভোটে গেরেও গেছেন। এই আসনে নৌকার প্রার্থী আহমেদ ফিরোজ কবির জিতেছেন বিশাল ব্যবধানে। ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন কবির; বিপরীতে ডলি সায়ন্তনী পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৮২ ভোট।
চলচ্চিত্রের জগৎ থেকে রাজনীতির মঞ্চে উঠে নৌকার মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনায় আসেন মাহিয়া মাহি (শারমিন আক্তার)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের নৌকার মাঝি হতে চাইলেও দলের মনোনয়ন পাননি। এরপর রাজশাহী-১ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে লড়ার ঘোষণা দেন। প্রচারে দারুণ সরব থাকলেও ভোটে গো-হারা হেরে গেছেন এই প্রার্থী। ঘোষিত ফলাফলে এই নায়িকা পেয়েছেন মাত্র ৯ হাজার ৯ ভোট। একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯২ ভোট।