মোদী সহ ভারতীয়দের অপমান, প্রতিবাদে মলদ্বীপের টিকিট বাতিল করছেন পর্যটকরা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি লাক্ষাদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্জন সমুদ্রসৈকতে বেশ খানিকটা সময়ও কাটান। স্নরকেলিংয়েও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এসব ছবি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন এবং বেড়াতে যাওয়ার তালিকায় লাক্ষাদ্বীপকে যুক্ত করতে আহ্বান জানান।
মোদীর এই ছবি শেয়ার করার পরই মলদ্বীপের মন্ত্রীদের মাথায় আগুন ধরে যায়। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নানা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে থাকেন। মলদ্বীপের যুব শক্তি, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী মারিয়াম সিউনা মোদীর ছবিতে কমেন্ট করেন, “ক্লাউন” (জোকার), “ইজরায়েলের হাতের পুতুল”। ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধে ইজরায়েলের পাশে থাকাতেই মোদীকে এহেন আক্রমণ করেন তিনি। সিউনা টুইটে লেখেন, “একেবারে যেন জোকার। ইজরায়েলের হাতের পুতুল নরেন্দ্র মোদী লাইভ জ্য়াকেট পড়ে ডুবুরি হয়েছেন এখন। #ভিসিটমলদ্বীপ”।
স্বাভাবিকভাবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এহেন মন্তব্য ভারতীয়দের চোখে পড়লেই ক্ষেপে ওঠেন তারা। ভারতীয় নেটিজেনদের তরফেও সিউনার বিরুদ্ধে কটাক্ষের ঝড় উঠে। বেগতিক দেখে কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন সিউনা।
সিউনার পর মলদ্বীপের আরও এক মন্ত্রী জাহিদ রামেজ বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন টুইটারে। সেই পোস্টেও কটাক্ষ করেছেন মোদী সহ ভারতীয়দের। পোস্টে ভারতীয়দের কার্যত “নোংরা” বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি।
এসবের পর ভারতীয়রাও আর চুপ থাকেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় “বয়কট মলদ্বীপ” ট্রেন্ড শুরু করেন তারা। মোদী ও ভারতীয়দের প্রতি অপমানসূচক মন্তব্যের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই একাধিক বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রী মলদ্বীপ ভ্রমণের টিকিট ক্যানসেল করেছেন।
এক এক্স ব্যবহারকারী পোস্ট করেছেন, “সরি মলদ্বীপ, আমার কাছে লাক্ষাদ্বীপ আছে। আমি আত্মনির্ভর।” এরপরেই মলদ্বীপ ভ্রমণ ক্যানসেল করার স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন তিনি।
অপর এক ব্যবহারকারীও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “৫ লাখ টাকা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন সপ্তাহের জন্য পামস রিট্রিট, ফুলহাডহু, মলদ্বীপ ভ্রমণের প্যাকেজ বুক করেছিলাম। তবে সেদেশের মন্ত্রীরা বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার সঙ্গে সঙ্গে সব ক্যানসেল করে দিয়েছি।”
এই ঘটনায় ভারত-মলদ্বীপ সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।