ভয়াবহ খাদ্য সংকট এই দেশে, অনাহারে মৃত্যু ৮৫০ জনের বেশি মানুষের

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার তিগ্রে অঞ্চলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনাহারে অন্তত ৮৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তিগ্রে প্রশাসনের প্রধান রেদাই হ্যালেফম অনাহারে ৮৬০ জনের মৃত্যুর খবর শিকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, অনেকের নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিগ্রের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রেদাই হ্যালেফম। তিনি বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকলে, অঞ্চলটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়তে পারে। তাই মানবিক সহায়্যের আবেদন জানান তিনি।

তিগ্রের আঞ্চলিক প্রশাসনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট গেটাচেউ রেডাও অনাহারে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি চলমান পরিস্থিতিকে বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। ১৯৮৪ সালের দুর্ভিক্ষের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। সেই দুর্ভিক্ষে ইথিওপিয়ায় লাখ লাখ মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিলেন।

তিগ্রে অঞ্চলের দুর্ভিক্ষের পিছনে গৃহযুদ্ধকে দায়ী করেছেন গেটাচেউ রেডা। সেই সঙ্গে রয়েছে খরা পরিস্থিতি। তিনি বলেছেন, দুইয়ের প্রভাবে তিগ্রের ৯১ শতাংশের বেশি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছেন। তিগ্রে অঞ্চলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে আঞ্চলিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

ব্রিটেনের সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে ইথিওপিয়ায় খাদ্য চুরি ও লুটপাটের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরেই আমেরিকা ও রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে দেশটির খাদ্য সংকট আরও চরম আকার নিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

ইথিওপিয়ায় খাদ্য সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা প্রয়োজন। খাদ্য সহায়তা ছাড়াও, যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা গেলে, খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।