কিমের পর উত্তর কোরিয়ার সিংহাসনে কে? জেনেনিন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মেয়েই তার উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে। এই প্রথম কিমের উত্তরসূরি হিসেবে কিম জু আয়ের নাম সামনে এনেছে এনআইএস। অবশ্য বিষয়টি এখনো পিয়ংইয়ংয়ের বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছে এনআইএস। ২০২২ সালের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসেন কিমকন্যা। এরপর থেকেই তাকে ‘হাই প্রোফাইল’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এনআইএস জানিয়েছে, জনসম্মুখে কিম জু অ্যাইর কর্মকাণ্ডগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এবং প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতির পর থেকে তার প্রতি যে সম্মান দেখা হচ্ছে, তাতে বর্তমানে তাকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি মনে হচ্ছে।

কিন্তু আমরা সব ধরনের সম্ভাবনাগুলোর দিকেও নজর রেখেছি, কারণ কিম জং উন এখনও যথেষ্ট তরুণ এবং তার বড় ধরনের কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যাও নেই। তাছাড়া এখানে আরো অনেক সূচকও রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে কিম জং উনের দ্বিতীয় সন্তান হচ্ছেন কিম জু এবং তার বয়স ১০ বছরের মতো।

একত্রীকরণ বিষয়ক দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রী কিম ইয়ুং-হো গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতিপক্ষে দেশের নেতার মেয়ে সম্পর্কে একই ধরনের তথ্য দিয়েছিলেন।

কিম জং উনের কন্যাকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাতে এটাই প্রমাণ হচ্ছে যে, আভ্যন্তরীণ কঠিন পরিস্থিতির কারণে উত্তর কোরিয়া উত্তরসূরি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে, বলেছিলেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার পর্যবেক্ষকরা দেখছেন, ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথম জনসম্মুখে আসার পর কিভাবে কিম জু ‘প্রিয় কন্যা’ থেকে ‘সম্মানিত কন্যা’ হয়ে উঠতে শুরু করেন।

‘সম্মানিত’ শব্দটি’ উত্তর কোরিয়ায় সবচেয়ে শ্রদ্ধে ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ভবিষ্যত নেতা হিসেবে কিম জং উনের অবস্থান নিম্চিত হওয়ার পরও তাকে ‘সম্মানিত কমরেড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

দেশটির জনগণকে বলা হয়ে, কিমের শরীরে রয়েছে পবিত্র রক্তের ধারা এবং তারাই শুধু দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। কিম নিজেও নিশ্চয়ই একইভাবে তার চতুর্থ প্রজন্মের হাতে তার পদটি দিতে চাইবেন।

খুব সাম্প্রতিক সময়ে কিম কন্যাকে দেখা গেছে বাবার সঙ্গে গত ডিসেম্বরে হাওসং-১৮ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার সময়।

এর আগে নভেম্বরে ম্যালিগইয়ং-১ গোয়েন্দা উপগ্রহ উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানেও বাবার পাশে দেখা যায় কিম জুকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মেয়েকে জনসম্মুখে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হতে পারেম কিম জং উন হয়ত চাইছেন মেয়ে ক্ষমতায় আসার আগেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলুক।

এটি কিমের জন্য কঠোর পিতৃতান্ত্রিক উত্তর কোরিয়ায় কুসংস্কার কাটিয়ে ওঠার একটি উপায়ও হতে পারে, যেখানে কখনো কোনো নারীর হাতে নেতৃত্ব আসেনি।

২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়ায় বিতর্কিত সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান যাওয়া প্রথমবারের মতো কিমের এই মেয়র কথা জানিয়েছিলেন।

রডম্যান ভাষ্য, তিনি কিমের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সমুদ্রের ধারে বেড়ানো ছাড়াও তাদের বাচ্চাকে কোলেও নিয়েছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা বরাবরই তার পরিবার সম্পর্কে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেন। বিয়ের পরও স্ত্রী রি সল জুয়ের বিষয়টি অনেকদিন গোপন রেখেছিলেন।