বিশেষ: কেন ২৪ ঘন্টায় ১৫০ বার কেঁপেছিল জাপান? জেনেনিন মূল কারণ

জাপানে নতুন বছরের প্রথমদিনে হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন এলাকায় ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়া জীবিতদের খোঁজে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন কয়েক হাজার উদ্ধারকারী।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় নোতো উপদ্বীপে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাস্তা ও অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, জাপান প্রশান্ত মহাসাগের রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত। এটা সাধারণত একটি কাল্পনিক বেল্ট, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। যেসব অঞ্চল এই রিং ফায়ারের অন্তর্গত, সেখানেই ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি হয়ে থাকে।
মোটামুটি তিনটি ভাগে বিভক্ত পৃথিবীর কাঠামো। এর বহির্বিভাগে রয়েছে লবণাক্ত বা কঠিন ত্বক।
দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে পুরু এক ঘন এবং আঠালো অংশ। আর তৃতীয় ভাগে রয়েছে ৩ হাজার ব্যাসের কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠ। দ্বিতীয় ভাগের ঘন ও আঠালো অংশের উপরিভাগে সাতটি অংশে বিভিক্ত। এগুলিকেই বলে টেকটোনিক প্লেট। জাপানের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নোটো উপদ্বীপে অনেকগুলি সক্রিয় ক্রুটি রয়েছে।
যেখানে, ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলিরে একসাথে ঠেলে দেয়। এটি বিপরীত টাইপ ফল্ট মেকানিজম হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
মূল ভূমিকম্পের পর থেকে নোতো উপদ্বীপে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি পরাঘাত হয়েছে। এতে অবকাঠামোগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন শঙ্কা বেড়েছে। বিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
ভূমিকম্পের পর থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে তিন দিন পার হবে। এরপর আটকাপড়া জীবিতদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মিলিয়ে যেতে থাকবে, তাই উদ্ধারকারীরা যত বেশি মানুষকে সম্ভব বাঁচানোর চেষ্টায় প্রাণপণ লড়াই করছিলেন।
“ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন, তারা উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন,” বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।
“আজ সন্ধ্যার মধ্যে যত বেশি মানুষকে সম্ভব উদ্ধারে আমাদের সব প্রচেষ্টা কাজে লাগাবো আমরা, ওই সময় দুর্যোগের পর থেকে ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যাবে,” বলেছেন তিনি।
জরুরি উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় থেকে ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর বেঁচে থাকার হার হ্রাস পেতে থাকে।