সরকারি ‘পেনশন ফান্ড’ হিসেবে সারা ফেলেছে NPS , প্রতিমাসে মিলবে লক্ষ লক্ষ টাকা পেনশন!

ভারতের ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম গ্রাহকদের অবসরকালে পেনশন দেওয়ার মাধ্যমে জমাকারীদের ভবিষৎ সুরক্ষিত করে। সরকারি PPF ,EPF ,সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতো এই জাতীয় পেনশন স্কীমে বিনিয়োগ করলেও মেলে আয়কর ছাড়ের সুবিধা।

অবসরকালে প্রতিমাসে মোটা টাকা পেনশন পেতে হলে এই ব্যবস্থায় লগ্নি করা উচিত বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। প্রতিমাসে ২ লক্ষ বা তার বেশি টাকা পেনশন হিসেবে পাওয়া যেতে পারে এই ফাঁদে বিনিয়োগ করলে।

NPS কি ?
পেনশন এই শব্দটি শোনামাত্র আমাদের সকলের মনে আর একটি শব্দের উঁকি দেয় তা হল সরকারি কর্মচারী । আমাদের প্রায় ৯০% মানুষের মধ্যে ধারনা হয়ে আছে যে সরকারি কর্মচারীরাই শুধু পেনশন পাবার যোগ্য কিন্তু তা সত্য নয় । ২০০৯ সাল থেকে ভারতবর্ষে বসবাসকারী ১৮-৬৫ বছরের যেকোন নাগরিক পেনশন স্কিমে সাবস্ক্রাইব করলে ৬০/৭০ বছরের পর থেকে পেনশন পাবেন ।

NPS পুরো অর্থ হল National Pension Scheme.

জাতীয় পেনশন প্রকল্প হল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ অবসরকালীন সুরক্ষা যোজনা প্রকল্প।

এই প্রকল্প টি ১লা জানুয়ারী ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয়, প্রথম অবস্থায় এই প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা পরতেন,তবে সশস্ত বাহিনী ছাড়া।

২০০৯ সাল থাকে এই প্রকল্পটির আওতায় ১৮-৬৫ বছরের সকল ভারতীয় নাগরিককে আনা হয় ।

ন্যাশনাল পেনশন প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রন করেন PFRDA (pension fund regulatory & development authority) ।

আপনি যদি জাতীয় পেনশন প্রকল্প সাবক্রাইব করতে চান , তাহলে আপনাকে Tier-1 অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামুলক।Tier-1 অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে ভারতীয় নাগরিক এবং বয়স ১৮-৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে ।

এই অ্যাকাউন্টের Lock in period ৬০ বছর পর্যন্ত থাকে ।

আপনাকে অ্যাকাউন্ট সচল রাখার জন্য বছরে অন্তত একবার করে ১০০০ টাকা জমা করতে হবে ।

আপনি যদি সারকারি কর্মচারী হন, তাহলে প্রতি মাসে SIP করতে চাইলে (Basic+DA) এর ১০% বিনিয়োগ করতে হবে।আর সাধারন নাগরিক হলে মাসিক ইনকামের ১০% করে।

সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আপনি ট্যাক্স বেনিফিট পাবেন , ৮০সি/৮০সিসিডি।

টায়ার-১ অ্যাকাউন্টে খোলার সময় রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ৫০০ টাকা জমা করতে হবে ।

Tier-2:

এই অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক নয়।তবে আপনি খুলতে চাইলে আপনার অবশ্যই টায়ার-১ অ্যাকাউন্ট থাকতেই হবে।এই অ্যাকাউন্টটি সেভিং অ্যাকাউন্টের মতো কাজ করে ।

এই অ্যাকাউন্টে কোন লক-ইন-পিরিয়ড থাকেনা । আপনি যখন ইচ্ছা টাকা জমা দিতে পারবেন এবং তুলতেও পারবেন ।তবে এই অ্যাকাউন্টে ট্যাক্স ছাড়ের কোন সুবিধা নেই ।

এই অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি টায়ার-১ অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন তবে টায়ার-১ থেকে টায়ার-২ তে কখন‌ও টাকা ট্রান্সফার হবে না ।

এই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আপনাকে অন্ততঃ ১০০০টাকা জমা করতে হবে ।

আপনি টায়ার-২ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে চাইলে নিন্মতম ২৫০ টাকা জমা করতে পারবেন ।

জাতীয় পেনশন প্রকল্প সাবস্ক্রাইব করার পদ্ধতি ?
জাতীয় পেনশন প্রকল্প সাবস্ক্রাইব করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে, একটি অফলাইন অপরটি অনলাইন।

আমি আজ দুটি পদ্ধতি সম্পর্কেই বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো , আপনাদের পক্ষে যেই পদ্ধতি সুবিধাজনক বলে মনে হবে তবে সেটাই করবেন।

আলোচনার পূর্বে দূটি কথা বলি , দুটি পদ্ধতি সুরক্ষিত বরং অনলাইনে করলে আপনার খরচ অনেকটাই কম হয়ে যাবে।

এনপিএস ক্যালকুলেটর :

কোনও গ্রাহক যদি ৬০:৪০ অনুপাতে মাসে ১৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে তিনি অর্থ তোলার সময় ১,৩৬,৭৫,৯৫২ টাকা পাবেন। আর মাসিক পেনশন দাঁড়াবে এক লাখ টাকার বেশি।