হামাস নির্মূলে নেমেছে ইস্রায়েল, যীশুর জন্মভূমিতে ছোট্ট শিশুদের খুঁজে বেড়াচ্ছে হতাশ সান্তা

হাজার বছর ধরে প্রভু যিশুর জন্মদিনে শিশুদের জন্য উপহারের ঝোলা কাঁধে ছুটে বেড়ানো সান্তাবুড়ো এমন বিপদে আগে পড়েননি কখনো। বরাবরের মতো এবারও হরিণটানা স্লেজে চড়ে বড়দিনের আগের রাতে পুরো দুনিয়া ঘুরে বাচ্চাদের ঘরের দুয়ারে উপহার পৌঁছে দিলেন তিনি। শেষমেষ আসলেন ইসরায়েলের নির্বিচার বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়।

কিন্তু রক্তস্নাত এই জনপদে পা রেখে বিমূঢ় সান্তা দেখতে পেলেন, তার উপহার বুঝে নেওয়ার জন্য কোনো শিশু বেঁচে নেই সেখানে। বরং, ভেঙে পড়া দালানকোঠার ফাঁকফোকরে আটকে থাকা নিহত শিশুদের কয়েকটি ধূসর পুতুল আচমকা তাকেই প্রশ্ন করে বসল—’আমাদের কিছু শিশু উপহার দিতে পারো?’

যিশুখ্রিস্টের জন্মভূমি বেথেলহেম সাধারণত খ্রিস্টীয় বড়দিনের সময় সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু চলতি বছর যুদ্ধ ইসরায়েলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি এ শহরটি থেকে পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের দূরে ঠেলে দিয়েছে; ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্যুভেনিরের দোকানগুলি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে আছে।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা ভূখণ্ডে নির্মম হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলের, এর জেরে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে; এই পরিস্থিতিতে বেথেলহেমে কেউ যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার বেথলেহেমে বড়দিন উদ্‌যাপন বাতিল করেছেন স্থানীয় পাদরিরা।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে বেথলেহেমের স্থানীয় নেতারা গত মাসে সিদ্ধান্তটি নেয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ বছর বেথলেহেমে বড়দিন উদ্‌যাপন বাতিল করা হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে বেথলেহেমে কোনো আনন্দ নেই, উদ্‌যাপন নেই, নেই সান্তা। সেখানকার পরিবেশ ভারী।

বেথলেহেমের বাসিন্দা ম্যাডেলিন বলেন, শহরটিতে আনন্দ–উল্লাস নেই, নেই সান্তাও। কারণ, এ বছর এখানে কোনো উদ্‌যাপন নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় শান্তির জন্য ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানরা এর আগে বেথলেহেমে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। প্রার্থনা করেন।

ভ্যাটিকানে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ‘ক্রিসমাস ইভ ম্যাস’ অনুষ্ঠানে পোপ ফ্রান্সিস মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজ তাদের হৃদয় পড়ে আছে বেথলেহেমে, যেখানে শান্তির রাজপুত্র যুদ্ধের নিরর্থক যুক্তি, অস্ত্রের সংঘাতে আরো একবার প্রত্যাখ্যাত, যা আজও তাকে পৃথিবীতে জায়গা খুঁজে পেতে বাধা দেয়।

হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২০ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।